ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ফ্ল্যাট কেলেঙ্কারি: ওবায়দুল কাদের ও ১৩ সচিবের বিরুদ্ধে মামলা করছে দুদক
- আপলোড সময় : ০৮-১২-২০২৫ ০৮:৪৬:৪৮ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-১২-২০২৫ ০৮:৪৬:৪৮ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৩৯ বার পঠিত
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের জন্য নির্মিত ফ্ল্যাট নিজেদের জন্য বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাবেক ১৩ জন সচিবের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটি জানিয়েছে, সরকারি সুবিধাভোগী কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হতে আইনের বাইরে গিয়ে প্রকল্পের ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিয়েছেন।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন মাসে একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে জানা যায়—ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য নির্মিত ফ্ল্যাটগুলো অস্বাভাবিক কম দামে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নিজেদের নামে নিয়েছেন। ওই সংবাদ প্রকাশের পর দুদক তদন্তে নামে এবং অভিযানের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা পায়। সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন।
দুদক জানায়, মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের; সেতু বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম; সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সাবেক সচিব মো. নজরুল ইসলাম; জননিরাপত্তা বিভাগের প্রাক্তন সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন; বিদ্যুৎ বিভাগের সাবেক সচিব ড. আহমদ কায়কাউস; ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. আবদুল জলিল এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. জাফর আহমেদ খান।
এছাড়া আরও রয়েছেন সাবেক অর্থ সচিব ও সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, আইন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক, প্রাক্তন সিনিয়র সচিব ও পরিকল্পনা কমিশনের প্রাক্তন সদস্য জুয়েনা আজিজ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. মোফাজ্জল হোসেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আজম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আখতার হোসেন ভূঁইয়া এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) সাবেক সচিব ড. আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের অধীনে ক্ষতিগ্রস্তদের আবাসনের জন্য ৪০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। গেজেটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল—এই জমি পুনর্বাসনের কাজে ব্যবহৃত হবে। কিন্তু প্রকল্পের উদ্দেশ্য পরিবর্তন করে তা সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্থায়ীভাবে ৯৯ বছরের লিজে বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুদকের মতে, সেতু কর্তৃপক্ষের আইনেও এমন কোনো প্রকল্প নেওয়ার ক্ষমতা নেই, ফলে এটি সম্পূর্ণভাবে বেআইনি পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
সূত্র বলছে, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রতারণামূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।