মোংলা বন্দরের দুইটি নতুন জেটি নির্মাণকাজ প্রায় দুই বছর ধরে স্থগিত থাকায় প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ২০১৮ সালে পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) চুক্তির মাধ্যমে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে হঠাৎ কাজ বন্ধ হয়ে যায়, যখন অগ্রগতি ছিল প্রায় ৬২ শতাংশ। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান উভয়ই বলছে, নতুন নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড প্রকল্পটি হাতে নেয় ২০১৮ সালে। বছরে এক লাখ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ২২ একর জমিতে দুটি জেটি, কন্টেইনার ইয়ার্ড, ফুয়েল স্টেশন, মাল্টিপারপাস ভবন, ওয়ার্কশপসহ মোট সাতটি স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্মাণকাজ বন্ধ থাকলেও বিনিয়োগকারীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের সিনিয়র ডেপুটি ম্যানেজার মাকরুজ্জামান বলেন, ইতোমধ্যে ৬২ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান দ্রুত কাজ পুনরায় শুরুর আশ্বাস দিয়েছে। তার মতে, প্রকল্পটি শেষ হলে মোংলা বন্দরের সামর্থ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দাকে কাজ বিলম্বের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। কোম্পানির পরিচালক আলতাফ হোসেন জানান, আর্থিক সংকট মোকাবিলা করে দ্রুত কাজ পুনরায় শুরু করা হবে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে প্রকল্পের সব নির্মাণ শেষ করা সম্ভব হবে। অনেক স্থাপনা ইতোমধ্যে নির্মিত হয়েছে বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় বন্দর কার্যক্রম ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক খান মেহেদী হাসান বলেন, প্রকল্পের অগ্রগতি থমকে থাকায় বন্দর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে এবং দ্রুত কাজ পুনরায় শুরু করা প্রয়োজন।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রকল্পের দুই বছরের নির্মাণকাল এবং ২৮ বছরের অপারেশন পর্যায় রয়েছে, যা ভবিষ্যতে বন্দর ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
মোংলা বন্দরে দুই জেটি নির্মাণ দুই বছর ধরে বন্ধ: বিনিয়োগকারীর আশ্বাস, শেষ হওয়ার লক্ষ্য ২০২৬
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ২৭-১১-২০২৫ ১০:৩৩:১৬ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৭-১১-২০২৫ ১০:৩৩:১৬ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৬ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
সর্বশেষ সংবাদ
এ জাতীয় আরো খবর
ডেস্ক রিপোর্ট