সাইবার আইনে সাংবাদিকদের সুরক্ষা চায় সম্পাদক পরিষদ
প্রস্তাবিত সংশোধনে ১২ দফা সুপারিশ, গ্রেপ্তার ও সংবাদ অপসারণে বিচারিক তদারকির দাবি
- আপলোড সময় : ১৯-১০-২০২৬ ০৯:২৮:৪৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৯-১০-২০২৬ ০৯:২৯:০৭ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৯ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ সংশোধনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সাইবার অপরাধ দমনের পাশাপাশি স্বাধীন সাংবাদিকতা, আইনসম্মত মতপ্রকাশ এবং গণমাধ্যমের পেশাগত স্বাধীনতা রক্ষায় ১২ দফা সুপারিশ দিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্পাদক পরিষদ প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদের দপ্তরে এসব সুপারিশ জমা দিয়েছে। সেগুলো তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালীব রহমানের কাছে পাঠানোর জন্য দেওয়া হয়। সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবীর এবং সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
সুপারিশে সংবাদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, ভিডিওসহ ডিজিটাল কনটেন্ট অপসারণ বা বন্ধ করার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি, লিখিত কারণ এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্বাধীন কর্তৃপক্ষ বা আদালতে আপিলের সুযোগ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার, তল্লাশি, জব্দ ও নজরদারির মতো পদক্ষেপের ক্ষেত্রে দ্রুত বিচারিক তদারকি এবং কার্যকর প্রতিকারের ব্যবস্থা রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। জরুরি প্রয়োজনে কনটেন্ট বন্ধ করা হলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আদালতের অনুমোদন বা পর্যালোচনার ব্যবস্থার সুপারিশও করা হয়েছে।
দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম, পরিবেশের ক্ষতি, জনস্বাস্থ্য, ভোক্তা অধিকার এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের সুরক্ষা চেয়েছে সংগঠনটি। সরকারের সমালোচনা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বা কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা, রাজনৈতিক মতামত, বিশ্লেষণ ও ব্যঙ্গকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাইবার অপরাধ হিসেবে গণ্য না করার প্রস্তাবও রয়েছে।
এ ছাড়া ভুল তথ্য, ইচ্ছাকৃত অপতথ্য ও গুজবের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ এবং আইনের অস্পষ্ট পরিভাষার সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। সংবাদ প্রকাশ, মতপ্রকাশ বা মানহানিসংক্রান্ত অভিযোগে নির্বাহী কর্তৃপক্ষ কিংবা ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরিবর্তে বিচারিক তদারকি নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে সম্পাদক পরিষদ।
সাংবাদিকদের তথ্যসূত্রের গোপনীয়তা রক্ষা, সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিল বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ শাস্তি না দেওয়া এবং এ ধরনের অভিযোগে প্রেস কাউন্সিলের প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়েও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার সুরক্ষাসংশ্লিষ্ট ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর কার্যক্রম তদারকিতে স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক জাতীয় সাইবার সুরক্ষা পরিষদ গঠনের সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।
সম্পাদক পরিষদের মতে, সাইবার অপরাধ দমন ও স্বাধীন সাংবাদিকতা পরস্পরবিরোধী নয়। যথাযথ আইনি কাঠামো, স্বচ্ছতা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইন সংশোধন করা হলে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা—দুটিই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।