বিদেশি ফলের কেজি ৪০০ টাকার বেশি, চাপে ক্রেতারা
আপেল, কমলা, আঙুর ও বেদানার চড়া দামে কমছে বিক্রি; শুল্ক, ডলারের দাম ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা।
- আপলোড সময় : ১৭-১০-২০২৬ ১২:২৬:৫৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৭-১০-২০২৬ ১২:২৬:৫৯ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ১৩ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
রাজধানীর বাজারে বিদেশি ফলের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। আপেল, কমলা, আঙুর ও বেদানার মতো জনপ্রিয় ফল কিনতে কেজিপ্রতি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে। এতে পরিবারের জন্য নিয়মিত ফল কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর ১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া ও আগারগাঁও এলাকার বিভিন্ন ফলের দোকান ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতাদের ভাষ্য, তুলনামূলক ছোট আকারের আপেল ছাড়া অধিকাংশ বিদেশি ফলই এখন কেজিপ্রতি ৪০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।
বাজারে লাল আপেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৮০ টাকা, সবুজ আপেল ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা, কমলা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং মাল্টা ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকায়। সবুজ আঙুরের দাম ৩৬০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং লাল আঙুর ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি। এ ছাড়া বেদানা ৪৫০ থেকে ৫২০ টাকা এবং নাশপাতি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলের আকার, জাত ও মান অনুযায়ী দামে পার্থক্য রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদেশি ফল আমদানিতে উচ্চ শুল্ক-কর, বন্দরে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা, ডলারের বিনিময়মূল্য এবং পরিবহন ব্যয়ের কারণে আমদানি খরচ বেড়েছে। আমদানিকারকদের কাছ থেকে বেশি দামে ফল কিনতে হওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম বেশি রাখতে হচ্ছে।
তাঁদের দাবি, অল্পসংখ্যক আমদানিকারকের হাতে বড় অংশের সরবরাহ থাকলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। আমদানি ও সরবরাহের পরিমাণ এবং পাইকারি-খুচরা দামের ব্যবধান যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মিরপুর ১০ এলাকার ফল ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান বলেন, বিদেশি ফলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় বিক্রি কমেছে। আমদানিকারকদের কাছ থেকে বেশি দামে ফল কেনার পাশাপাশি পরিবহন ও অন্যান্য খরচও বহন করতে হচ্ছে। ফলে ক্রেতাদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। দাম বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতা ফল কিনতে এসে পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছেন, কেউ কেউ আবার না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।
ক্রেতারাও ফলের বাড়তি দাম নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের জন্য নিয়মিত ফল কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য ফল কিনতে গেলেও বাজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিমাণ কমাতে হচ্ছে। এ কারণে অনেকে বিদেশি ফলের পরিবর্তে তুলনামূলক সস্তা দেশি ফল কিনছেন।
কাজীপাড়া এলাকার ক্রেতা ফজলে রাব্বি বলেন, আগে পরিবারের জন্য নিয়মিত আপেল, কমলা ও আঙুর কিনতেন। কিন্তু দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন পরিমাণ কমাতে হচ্ছে। শিশুদের পুষ্টির কথা বিবেচনা করে ফল কিনলেও বর্তমান দামে নিয়মিত কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
শেওড়াপাড়া এলাকার ক্রেতা মমিনুল হক বলেন, বিদেশি ফলের বর্তমান দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। আয় না বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি ফলের দাম বাড়ছে। আগে মাঝেমধ্যে পরিবারের জন্য আপেল, কমলা বা আঙুর কিনলেও এখন অনেক সময় দাম শুনে আর কেনা হয় না। ফলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালে রাখতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।