পার্লামেন্ট নির্বাচনে সর্বোচ্চ আসন পাওয়া পিএএমের নেত্রী ফাতিমা জাহরা আল মানসুরিকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ।
মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পেলেন। মঙ্গলবার রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ ৫০ বছর বয়সী ফাতিমা জাহরা আল মানসুরিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন এবং নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি আরব বিশ্বে প্রধানমন্ত্রী হওয়া দ্বিতীয় নারী হলেন।
রাজপ্রাসাদের বিবৃতিতে বলা হয়, ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে ফাতিমার দল অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি বা পিএএম সর্বোচ্চ ৩৯৫টি আসনের মধ্যে ৯৭টি পেয়েছে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় দলটিকে অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করতে হবে।
নিয়োগের পর টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে ফাতিমা বলেন, মরক্কোর ইতিহাসে এই প্রথম একজন নারী সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিচ্ছেন। তিনি এ ঘটনাকে নিজের পাশাপাশি দেশের সব নারীর জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
আইন বিষয়ে প্রশিক্ষিত ফাতিমা এর আগে জাতীয় পরিকল্পনা, নগরায়ণ, আবাসন ও নগরনীতি বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মারাকেশের মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত পিএএমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত থাকা ফাতিমা বর্তমানে দলটির যৌথ নেতৃত্বের সমন্বয়কের দায়িত্বেও ছিলেন।
নতুন সরকার গঠনের জন্য পিএএম সব দলের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি এবং ফেডারেশন অব ডেমোক্রেটিক লেফটসহ কয়েকটি দল বিরোধী দলে থাকার কথা জানিয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফাতিমার সামনে প্রথম বড় দায়িত্ব হবে একটি কার্যকর জোট গঠন করা।
নতুন সরকারের সামনে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতির মতো অভ্যন্তরীণ বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনকে কেন্দ্র করে মরক্কো, স্পেন ও পর্তুগালের যৌথ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ও অবকাঠামোগত কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বও সরকারের ওপর থাকবে।
এর আগে তিউনিসিয়ার নাজলা বুদেন ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর পর ফাতিমা আল মানসুরি আরব বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন।