দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগামী বছরের শেষ দিকে মস্কোতে হামলা চালাতে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর আগে ২০৩০ সালের একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা ধারণা করা হয়েছিল। স্থানীয় সময় শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ‘ফ্রান্স টেলিভিশনস’ এ তথ্য জানিয়েছে।
সম্প্রচারমাধ্যমটির উল্লেখ করা একটি গোপন নথিতে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সম্ভাব্য বড় হামলার সময়সীমা এগিয়ে আনা হয়েছে। ২০২৭ সালের শরৎকালকে সম্ভাব্য সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে কৌশলগত অবকাঠামো যেমন বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গ্রিড, রেলপথ, টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং পানীয় জলের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
ফরাসি সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক উপ-পরিচালক অ্যালাইন ক্রিস্টিয়েন ‘ফ্রান্স টেলিভিশনস’-কে বলেছেন, এমন কোনো হামলায় বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করে ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা শিল্পের কোনো স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
তিনি বলেন, এ ধরনের হামলার পেছনে রাশিয়া জড়িত ছিল কি না, তা নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে। তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমানে এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে পুরোপুরি সুরক্ষা দেওয়ার সক্ষমতা ফ্রান্সের নেই। ফ্রান্স ও ইউরোপের বিরুদ্ধে রাশিয়ার ‘হাইব্রিড হুমকি’ (প্রথাগত ও অপ্রথাগত কৌশলের মিশ্রণ) ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এমন বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য শুক্রবার প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ যখন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে একটি গোপন বৈঠক করেন, ঠিক তখনই এই প্রতিবেদনটি সামনে এল।
ম্যাক্রোঁ জানান, ড্রোন ও সাইবার হামলা থেকে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প ও প্রযুক্তিগত কাঠামোর আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোকে সুরক্ষার জন্য সরকার একটি পরিকল্পনা তৈরি করবে। এছাড়া ফরাসি সরকার স্থানীয় পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, সেনাবাহিনী, শিক্ষা কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ী মহল এবং জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা দল গঠনের জন্য স্থানীয় প্রশাসনিক প্রধানদের (প্রিফেক্ট) নির্দেশ দিয়েছে।