বিহারে ৭০তম বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশন (বিপিএসসি) পরীক্ষা বাতিল, প্রশ্নফাঁস ও নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে চলমান শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পাটনায় মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর বাসভবনের দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এগিয়ে গেলে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি জলকামান ব্যবহার করে এবং কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে।
সকাল ১০টার দিকে পাটনার গান্ধী ময়দান থেকে মিছিল শুরু করেন শত শত শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থী। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে যাওয়ার পথে সরকারের স্থাপন করা একাধিক ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করেন তারা। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করা হয়।
পুলিশি বাধা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীদের একটি অংশ মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। পরে ওই এলাকা খালি করতে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে। দীর্ঘদিন ধরে পাটনার গার্ডানিবাগ এলাকায় ৭০তম বিপিএসসি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা।
মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে জমি সংক্রান্ত দাবিতে আন্দোলনরত একটি কৃষক দলও কালো পতাকা নিয়ে অংশ নেয়। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
এর এক দিন আগে ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিহার সরকারের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, আলোচনা ইতিবাচক হলেও তাদের মূল দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ছাত্রনেতা সৌরভ কুমারের অভিযোগ, সরকার তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য কেবল জুনিয়র কর্মকর্তাদের পাঠাচ্ছে। আন্দোলনকারীরা এ ধরনের বৈঠক মেনে নিতে রাজি নন। তাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী অথবা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের সুযোগ দিতে হবে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নোটিশ না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না বলেও জানান তারা।
এদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ হিসেবে মঙ্গলবার প্রতি মাসের চতুর্থ মঙ্গলবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বিদ্যার্থী সহযোগী শিবির’ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে বিহার সরকার। মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, এসব শিবিরে শিক্ষার্থীরা সরাসরি কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন। পাশাপাশি অনলাইন পোর্টাল ও ১১০০ হেল্পলাইন নম্বরের মাধ্যমে অভিযোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে।
তবে সরকারের এই উদ্যোগের পরও ৭০তম বিপিএসসি পরীক্ষা ঘিরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ কমেনি। তারা তাদের দাবিতে অনড় থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।