দেশের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধমূলক ঘটনার অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে। বর্তমান সময়ে বাসাবাড়িতে চুরির ঘটনা থেকে শুরু করে রাস্তাঘাটে ছিনতাই ও হেনস্তার মতো ঘটনা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে।
সুযোগসন্ধানী চোরেরা প্রতিনিয়ত ওত পেতে থাকে একটুখানি অসতর্কতার আশায়। সামান্য সুযোগ পেলেই তারা হানা দেয় মানুষের চিরচেনা নিরাপদ আশ্রয়ে। কখনো মাঝরাতে জানালার গ্রিল কেটে, আবার কখনো দিনের আলোয় ফাঁকা বাড়ির তালা ভেঙে মুহূর্তেই লণ্ডভণ্ড করে দেয় সবকিছু।
নগদ টাকা, কষ্টার্জিত সঞ্চয় আর পরম যত্নে রাখা স্বর্ণালংকারসহ সব মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নেয় তারা। নিমিষেই একটি পরিবারকে ঠেলে দেয় চরম অনিশ্চয়তার মুখে। সবকিছু হারিয়ে মানুষ হয়ে পড়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
অন্যদিকে, ব্যস্ত সড়ক কিংবা জনাকীর্ণ এলাকাগুলোতেও সারাক্ষণ ওত পেতে থাকে দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারীরা। একটু সুযোগ পেলেই তারা হিংস্র থাবা বসায় সাধারণ পথচারীদের ওপর। মুহূর্তের অসতর্কতায় পথচলতি মানুষের হাত থেকে কেড়ে নেয় মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ কিংবা সাথে থাকা অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র।
বিশেষ করে রাতের অন্ধকার নামলে কিংবা তুলনামূলক নির্জন রাস্তায় এই আতঙ্ক আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বা চলন্ত গাড়ি থেকে টান মেরে সর্বস্ব লুটে নিতে তারা দ্বিধা করে না। আকস্মিক এই হামলার শিকার হয়ে মানুষ শুধু তাদের শেষ সম্বলই হারায় না, বরং অনেকেই গুরুতর শারীরিক জখম ও চরম মানসিক ট্রমার মুখোমুখি হন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক্ষেত্রে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। এই ক্রমবর্ধমান অপরাধ রুখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, আবাসিক এলাকা এবং ব্যস্ত বাজারগুলোতে সার্বক্ষণিক টহল পুলিশের ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি।
একই সাথে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোকে আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনে কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো অপরাধ ঘটার সাথে সাথে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। প্রশাসনের এমন কঠোর ও তাৎক্ষণিক ভূমিকা সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে এবং অপরাধীদের মনে ভয় ধরাতে পারে। ।
অপরাধীদের রুখতে কেবল প্রশাসনের ওপর ভরসা করে বসে থাকলে চলবে না, নাগরিকদেরও নিজস্ব জায়গা থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় জানালার গ্রিল এবং দরজার তালা সঠিকভাবে লক করা হয়েছে কি না, তা বারবার পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। অপরিচিত কাউকে বাড়িতে প্রবেশ করতে দেওয়ার আগে তার পরিচয় নিশ্চিত করা জরুরি।
পাশাপাশি, রাস্তায় চলাচলের সময় বিশেষ করে নির্জন বা অন্ধকার পথ এড়িয়ে চলতে হবে। মূল্যবান মোবাইল বা টাকা-পয়সা জনসম্মুখে এমনভাবে ব্যবহার করা উচিত নয় যা অপরাধীদের আকর্ষণ করে। পাড়া-মহল্লায় যুবকদের নিয়ে নৈশ প্রহরা বা ‘কমিউনিটি পুলিশিং’ ব্যবস্থা জোরদার করার মাধ্যমে নাগরিকরা নিজেরাই নিজেদের এলাকার নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে পারেন।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে জননিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে এবং মানুষ স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশে চলাফেরা করতে পারবে।
ডেস্ক রিপোর্ট