নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফিরে হত্যা ও দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান। একই সঙ্গে দেশে ফিরে বিদায়ী সিরিজ খেলা এবং ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলতে থাকা সাকিব বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে তার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হলে তিনি দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হতে এবং প্রয়োজনীয় সব আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে প্রস্তুত।
নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে সাকিব দাবি করেন, তিনি কোনো অপরাধ করেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। এর একটি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এবং অন্যটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা দুর্নীতির অভিযোগসংক্রান্ত।
হত্যা মামলাটিকে ‘হাস্যকর’ উল্লেখ করে সাকিব বলেন, মামলাটি দায়েরের দিন তিনি কানাডার টরন্টোতে একটি ক্রিকেট ম্যাচ খেলছিলেন। এ মামলায় এখনো কোনো আইনজীবীও নিয়োগ দেননি বলে জানান তিনি।
দেশে ফেরার বিষয়ে সাকিব বলেন, তিনি যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে ফিরতে চান। তা সম্ভব না হলে শেখ হাসিনার সঙ্গে ডিসেম্বরে দেশে ফেরার চেষ্টা করবেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, দলের নেতৃত্ব যে সিদ্ধান্ত নেবে, তিনি সেটিই অনুসরণ করবেন।
সম্প্রতি ভারতের দিল্লি থেকে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন সাকিব। তিনি বলেন, সেখানে তিনি কেবল শান্তি ও বাংলাদেশের উন্নয়নের আহ্বান জানিয়েছেন এবং এ নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই।
এর আগে দেশে ফেরার জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলেও জানান সাকিব। তার দাবি, ২০২৪ সালের শেষ দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়ে তিনি দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানে উঠেছিলেন। তবে যাত্রাপথেই তাকে ফিরে যেতে বলা হয় এবং পরে দুবাই থেকে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর পর দেশে ফেরার আরেকটি উদ্যোগও ব্যর্থ হয় বলে জানান তিনি। তার দাবি, ওই পোস্টের কারণেই দেশে প্রবেশে বাধার কথা তাকে জানানো হয়েছিল। তবে এমন সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা তিনি বুঝতে পারেননি।
আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনার সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করলে দেশে ফেরার সুযোগ তৈরি হতে পারে— এমন পরামর্শও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত বিবেচনায় নেই বলেও স্পষ্ট করেন।
ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়েও কথা বলেন সাকিব। ৩৯ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার জানান, এখনও বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলছেন এবং খেলাটি উপভোগ করছেন। তবে বয়সের কারণে অবসরের সিদ্ধান্ত খুব বেশি দিন পিছিয়ে দিতে চান না।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জানান, প্রায় দেড় বছর ধরে তদন্তের কারণে তার ব্যাংক হিসাব জব্দ রয়েছে। পাশাপাশি গত দুই বছরে বাংলাদেশে থাকা বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে না পারার বিষয়টিও পরিবারের জন্য কঠিন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত সাকিব
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ০৭-০৮-২০২৬ ০৭:১১:২৫ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৭-০৮-২০২৬ ০৭:১১:২৫ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ১৭ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
সর্বশেষ সংবাদ
এ জাতীয় আরো খবর
ডেস্ক রিপোর্ট