ভারত থেকে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় আমদানি করা চালের একটি অংশ নিম্নমানের পাওয়ায় তা ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তবে পুরো চালবোঝাই জাহাজ ফেরত দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছে খাদ্য বিভাগ। এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার বস্তা নিম্নমানের চাল শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ বস্তা ইতোমধ্যে জাহাজে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
খাদ্য অধিদপ্তরের চলাচল ও সংরক্ষণ বিভাগের (সিএমএস) নিয়ন্ত্রক মো. সাকিব রেদোয়ান বুধবার বলেন, জাহাজে থাকা নিম্নমানের চালগুলোই ফেরত পাঠানো হচ্ছে। প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি করে চাল রয়েছে। আজকের মধ্যে আরও প্রায় ১ হাজার ২০০ বস্তা ফেরত পাঠানোর কথা রয়েছে।
তিনি জানান, মঙ্গলবার ভারতীয় কয়েকটি গণমাধ্যমে পুরো চালবোঝাই জাহাজ ফেরত পাঠানোর যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেটি সঠিক নয়। শুধু মান যাচাইয়ে অনুপযুক্ত বা নিম্নমানের চাল ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুলাই জিটুজি চুক্তির আওতায় ১০ হাজার ৮৭৮ টন চাল নিয়ে ‘এমভি এইচটি পাইওনিয়ার’ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। পরদিন খাদ্য অধিদপ্তরের পাঁচ সদস্যের উপস্থিতিতে চালের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে চালকে খাওয়ার উপযোগী উল্লেখ করা হলে খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়।
এরপর ২৪ ও ২৫ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে চাল খালাস শুরু হয়। খালাসের সময় চালের একটি অংশের মান নিয়ে আপত্তি ওঠায় কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর আগে কিছু চাল দেশের বিভিন্ন সরকারি খাদ্যগুদামেও পাঠানো হয়েছিল।
ঢাকার তেজগাঁও সেন্ট্রাল স্টোরেজ ডিপো (সিএসডি)তে প্রায় ২ হাজার টন এবং চট্টগ্রামের হালিশহর ও দেওয়ানহাট সিএসডিতে কয়েকশ টন করে চাল পাঠানো হয়। গুদামে চাল গ্রহণের সময় কর্মকর্তারা এর একটি অংশকে অত্যন্ত নিম্নমানের ও খাদ্য হিসেবে অনুপযোগী বলে শনাক্ত করেন। বিষয়টি পরে খাদ্য সচিব ও খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানানো হয়।
হালিশহর সিএসডির ব্যবস্থাপক ইকবাল মাহমুদ জানান, গুদামে নিম্নমানের চাল পৌঁছানোর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছিল। এরপর বন্দর থেকে চাল খালাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক জিএম ফারুক হোসেন পাটওয়ারী বলেন, জাহাজে আসা চালের একটি অংশ নিম্নমানের হওয়ায় খালাস বন্ধ রয়েছে। খাদ্য বিভাগের একটি দল জাহাজে অবস্থান করে চাল বাছাই করছে। মানসম্মত চাল গ্রহণ করা হলেও নিম্নমানের চাল কোনোভাবেই গ্রহণ করা হবে না এবং সেগুলো জাহাজে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
বর্তমানে ‘এমভি এইচটি পাইওনিয়ার’ চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সাইলো জেটিতে অবস্থান করছে।
ডেস্ক রিপোর্ট