যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার জন্য ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে ইরানপন্থী ইরাকি মিলিশিয়াদের একটি জোট। এ ঘোষণার মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আগে থেকেই বিদ্যমান উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে।
ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক (আইআরআই) নামে পরিচিত জোটটির এ ঘোষণা আসে, হোয়াইট হাউসে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প ২০২০ সালে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানি এবং ইরাকি মিলিশিয়া নেতা আবু মাহদি আল-মুহান্দিসকে হত্যায় নিজের ভূমিকার কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করার পর।
গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, ‘যে কেউ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যা করবে অথবা এ ধরনের অভিযান পরিচালনার জন্য অর্থায়ন বা সহায়তা করবে, তাকে এই পুরস্কার দেয়া হবে।’
তারা দাবি করেছে, তাদের সদস্য ও সমর্থকদের অনুদানের মাধ্যমে ১ কোটি ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ তারা উপস্থাপন করেনি।
মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরাকের ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যা করতে পারলে ১ কোটি ডলার পুরস্কার দেয়া হবে।
এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানায়, তাদের সদস্য ও সমর্থকদের অনুদানে সংগ্রহ করা ১ কোটি ডলার পুরস্কার বরাদ্দ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘বিশ্বের স্বাধীন মানুষ শিশু ও বিজ্ঞানীদের হত্যাকারীর পিছু ধাওয়া অব্যাহত রাখবে। অত্যাচারীরা কখনো শান্তি পাবে না, আর সম্মানিত মানুষের ক্রোধ থেকে সেই অপরাধী কোনো নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাবে না। প্রতিশোধ নেয়া যোদ্ধাদের ওপর অঙ্গীকারস্বরূপ দায়িত্ব, আর শহীদদের রক্ত অহংকারী শাসকদের সিংহাসন কাঁপিয়ে যেতে থাকবে, যতক্ষণ না আগ্রাসীরা পরাজিত হয় এবং অত্যাচারের দুর্গগুলো ভেঙে পড়ে।’
ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক (আইআরআই) কোনো একক সংগঠন নয়; এটি ইরান-সমর্থিত প্রধানত শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একটি জোট।
এই জোটভুক্ত অনেক গোষ্ঠীই ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)–এর সদস্য। এর মধ্যে রয়েছে— কাতাইব হিজবুল্লাহ, হারাকাত হিজবুল্লাহ আল-নুজাবা, কাতাইব সাইয়্যিদ আল-শুহাদা ও আসাইব আহল আল-হক।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এসব গোষ্ঠী ইরাক, সিরিয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য স্থানে মার্কিন সেনা, কূটনৈতিক স্থাপনা ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে শত শত ড্রোন, রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এসব মিলিশিয়া গোষ্ঠী ইরানের সীমান্তের বাইরে সামরিক চাপ প্রয়োগের অন্যতম প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
যদিও ইরাকি মিলিশিয়া নেতারা নিজেদের স্বাধীন ‘প্রতিরোধ’ আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও অনেক পশ্চিমা দেশের দাবি, এসব গোষ্ঠী ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কুদস ফোর্স (আইআরজিসি-কিউএফ) থেকে ব্যাপক সমর্থন পায়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
কাসেম সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডের জেরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে
ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা ইরাকি মিলিশিয়ার
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১৯-০৭-২০২৬ ০৭:১৭:০১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৯-০৭-২০২৬ ০৭:১৭:০১ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২৭ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
সর্বশেষ সংবাদ
এ জাতীয় আরো খবর
ডেস্ক রিপোর্ট