যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত রাখলে ওয়াশিংটনকে ‘ভুলে না যাওয়ার মতো শিক্ষা’ দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
শনিবার (১৯ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক লিখিত বিবৃতিতে খামেনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে স্বাক্ষরিত চুক্তি বারবার ভঙ্গ করে যুক্তরাষ্ট্র প্রমাণ করেছে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কার্যকারিতা নেই। বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকে ‘চাপ, আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসননির্ভর’ বলেও উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি সংঘাত আরও বাড়ানোর পথে এগোয়, তাহলে ইরান ও তাদের মিত্ররা এমন প্রতিক্রিয়া জানাবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। এই বক্তব্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা জোরদার করেছে। জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর পাল্টা অভিযানের অংশ হিসেবে নতুন করে হামলা চালানো হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের কেশম দ্বীপের নিকটবর্তী একটি স্থানে হামলা চালিয়েছে। তবে এতে বেসামরিক হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি এবং আবাসিক বা বাণিজ্যিক স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষতির খবরও মেলেনি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, জর্ডানে ইরানের হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং একজন নিখোঁজ হয়েছেন। আহত কয়েকজন সেনাকে চিকিৎসা দিয়ে পুনরায় দায়িত্বে ফেরানো হয়েছে। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পারস্পরিক হামলা ও পাল্টা হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট