ঢাকা , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) , ১১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
আল-আকসার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে ইসরাইল:শায়খ ইকরিমা সাবরি অপ্রতিম হত্যা মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন: আইফোন ছিনতাই ও পাঁচ হাজার টাকা অব্যবহৃত ২৪টি ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার নয়াদিল্লির একাধিক স্কুলে ইমেইলে বোমা হামলার হুমকি: তল্লাশি অভিযান শুরু সমুদ্রের ১০ মিটার গভীরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনা বিজ্ঞানীদের সাফল্য জাতিসংঘে ভাষণ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন তারেক রহমান ইসরায়েলের কাছে ৬০ হাজার ভারী বোমা বিক্রির চূড়ান্ত প্রস্তুতি ট্রাম্পের খিলক্ষেত থেকে ১২ বছরের শিশু নাঈম নিখোঁজ: অজ্ঞাত ব্যক্তির ফোনকল পরিবারে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেসরকারি খাতে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের পক্ষে রাশিয়ার ও চীনের ভেটো যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তির এলএনজি আমদানির প্রথম চালান দেশে পৌঁছেছে ভেনেজুয়েলার ৪০০ কোটি ডলারের স্বর্ণ নিউইয়র্কে যাচ্ছে রূপপুরের বিদ্যুৎ গ্রিডে নিতে সঞ্চালন প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ল উত্তর আরব সাগরে ভারত-পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজের সংঘর্ষ, উঠছে প্রশ্ন স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণের কথা আদালতে স্পষ্ট করলেন ভারতের আয়ুষ মালিক দেশের তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘উদ্যোগ’ ঢাকায় তিন মেট্রোরেল প্রকল্পে আড়াই লাখ কোটি টাকা অনুমোদন লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় ঢুকে পড়া ড্রোন ভূপাতিত করল ন্যাটোর যুদ্ধবিমান

মৃত মানুষের আবেগের দাম ১০০ রুপি? মথুরায় শতবর্ষী কবরস্থান ভাঙায় তীব্র ক্ষোভ

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ২৪-০৬-২০২৬ ০৩:২৮:১৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-০৬-২০২৬ ০৩:২৮:১৬ পূর্বাহ্ন
  • ২ মিনিট পড়ার সময়
  • ৪৪ বার পঠিত
মৃত মানুষের আবেগের দাম ১০০ রুপি? মথুরায় শতবর্ষী কবরস্থান ভাঙায় তীব্র ক্ষোভ ছবি: সংগৃহীত
মৃত মানুষের আবেগের দাম কি মাত্র ১০০ রুপি? উত্তরপ্রদেশের মথুরার একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই প্রশ্নই এখন স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে। মথুরার মনোহরপুরা এলাকায় রাতের অন্ধকারে স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে একটি শতাব্দীপ্রাচীন মুসলিম কবরস্থান ভাঙচুর এবং পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রতি কবরের জন্য মাত্র ১০০ রুপি ধার্য করার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ২৬ এপ্রিল গভীর রাতে মথুরা নগর নিগমের সহকারী পৌর কমিশনারদের নির্দেশে আচমকাই মনোহরপুরার 'আহল-এ-মুসলিমীন কবরস্থানে' বুলডোজার নিয়ে প্রবেশ করে একদল কর্মী। অন্ধকারে চালানো এই অভিযানে কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলার পাশাপাশি অন্তত নয়টি কবর লণ্ডভণ্ড করা হয়।

অভিযান এতটাই নির্মম ছিল যে, মাটির নিচ থেকে মৃতদেহের কাফন এবং কঙ্কালের অংশ বাইরে বেরিয়ে আসে। স্থানীয় বাসিন্দা তৌসিফ শেখ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "জীবিত হোক বা মৃত—আমাদের কোনো মূল্য নেই প্রশাসনের কাছে। ওয়াকফ বোর্ডের বৈধ সম্পত্তিতে আমরা স্বজনদের দাফন করেছি, অথচ সেখানেও এই নির্মমতা! আমার ভাইয়ের কাফনের কাপড় পর্যন্ত বাইরে বেরিয়ে এসেছিল।"

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী উত্তরপ্রদেশ সরকারের 'ইন্টিগ্রেটেড গ্রিভেন্স রিড্রেসাল সিস্টেম' (আইজিআরএস)-এ অভিযোগ দায়ের করেন। চাপের মুখে মথুরা-বৃন্দাবন মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং গত ৮ মে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে যে মোট ৯টি কবর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে বিতর্কের ঝড় ওঠে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক দেখে। পৌরসভার পক্ষ থেকে ঠিকাদার সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয় যেন ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি কবরের জন্য ১০০ রুপি হারে মোট ৯০০ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২৬ মে আরেকটি মূল্যায়নে ৬টি গাছ এবং ২০টি সীমানা খুঁটি ভাঙার জন্য যথাক্রমে ৬০০ রুপি ও ২,০০০ রুপি ক্ষতিপূরণ ধরা হয়। সব মিলিয়ে মোট ৩,৫০০ রুপির দুটি চেক কবরস্থান কমিটির কাছে পাঠানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই ক্ষতিপূরণকে চরম অপমানজনক বলে মনে করছেন। তাঁদের প্রশ্ন, যে স্বজনদের হারিয়ে তাঁরা শোকাচ্ছন্ন, তাঁদের স্মৃতির অবমাননা কীভাবে মাত্র কয়েকশো রুপি ছুঁড়ে দিয়ে মিটিয়ে দেওয়া সম্ভব?

রেকর্ড অনুযায়ী, এই কবরস্থানটি ১৯০৯ সাল থেকে ওই স্থানে রয়েছে এবং এটি উত্তরপ্রদেশ সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডের অধীনে একটি গেজেট নোটিফাইড সম্পত্তি (ওয়াকফ নং ৭৪ এবং ৮৫৮)। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরেও এর শংসাপত্র নবায়ন করা হয়েছিল।

কবরস্থান কমিটির সদস্য শাকির হুসেন বলেন, "কবরস্থানের ঠিক বাইরে ময়লা ফেলার ডাম্পিং জোন তৈরি করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন উপায়ে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। আজ আমাদের কবরস্থান ভাঙা হলো, এর আগে আমাদের ঘরবাড়ি আর দোকানপাট টার্গেট করা হয়েছিল। আমরা আর কত সহ্য করব?"

মথুরার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং শাহি ইদগাহ বিতর্ককে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনা মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রশাসনের এই 'হিসাব কষে করা ক্ষতিপূরণ' ক্ষত উপশম করার বদলে স্থানীয় মানুষের মনে ক্ষোভের আগুন আরও উসকে দিয়েছে।

সূত্রঃ দ্য ওয়্যার

নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।