মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবায় পুনরাবৃত্তি কমিয়ে সেবার কার্যকারিতা বাড়াতে সরকার একটি সমন্বিত কাঠামোর অধীনে স্বাস্থ্য কার্যক্রম একীভূত করার উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। এ পরিকল্পনার আওতায় বর্তমান ও নতুন মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীকে একই ব্যবস্থার অধীনে আনা হবে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তন-এ ‘বাংলাদেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি’ শীর্ষক নীতি সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারের স্বাস্থ্য নীতির কেন্দ্রবিন্দু হলো প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা এবং একটি আধুনিক, পুনর্গঠিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা।
তিনি বলেন, বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ ও কমিউনিটি ক্লিনিক মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার কর্মী আলাদা আলাদা কাঠামোয় কাজ করছেন। ফলে একই এলাকায় একাধিকবার সেবা পৌঁছালেও কিছু এলাকা সেবার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এই “ডুপ্লিকেশন” দূর করতে সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলা হলে সেবার বিস্তৃতি বাড়বে এবং কাভারেজের ঘাটতি কমবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সরকার অতিরিক্ত ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। একীভূত ব্যবস্থায় সবার জন্য অভিন্ন দায়িত্ববণ্টন (জব ডেসক্রিপশন) ও একটি মানসম্মত ‘এসেনসিয়াল সার্ভিস প্যাকেজ’ চালু করা হবে, যাতে সেবার মানে একরূপতা বজায় থাকে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে শুধু জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হবে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ নিজ উদ্যোগে গর্ভনিরোধক ব্যবহার করেন, যা সচেতনতা বাড়লে ৭০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি।
স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়ন প্রসঙ্গে ড. মুহিত বলেন, বরাদ্দের পাশাপাশি দক্ষতা ও সময়মতো বাস্তবায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে রিয়েল-টাইম তথ্য সংগ্রহ ও স্থানীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
সংলাপের প্যানেলে আরও অংশ নেন ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার, ডা. আশরাফী আহমাদ, তসলিম উদ্দিন খান, ডা. মোহাম্মদ জাহিরুল ইসলাম, ডা. উবায়দুর রব, ডা. ইয়াসমিন এইচ আহমেদ, শিশির মোড়ল এবং ডা. আবু জামিল ফয়সেল।
ডেস্ক রিপোর্ট