ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত এবং প্রায় ৯০ জন আহত হয়েছেন। রাজধানী কিয়েভসহ একাধিক শহরে একযোগে চালানো এই হামলায় আবাসিক ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে দেশজুড়ে হামলা চালানো হয় বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কিয়েভে নিহতদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে। এছাড়া দিনিপ্রো শহরে তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে চালানো হামলায় আহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, শহরের পদিলস্কি এলাকায় একটি ১৬ তলা ভবন ধসে পড়ে এবং সেখান থেকে এক নারী ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী ওডেসায় হামলায় আরও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সামরিক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে একাধিক স্থাপনায় আগুন লাগে এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি খারকিভেও ড্রোন হামলায় বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে সীমান্তের ওপারে ক্রাসনোদার ক্রাই অঞ্চলে ইউক্রেনের পাল্টা ড্রোন হামলায় দুই শিশু নিহত হয়েছে বলে রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এই হামলার আগে অর্থোডক্স ইস্টার উপলক্ষে উভয় পক্ষের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল। তবে সে সময়ও একে অপরের বিরুদ্ধে বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে মস্কো ও কিয়েভ।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এই হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানো এবং ইউক্রেনকে সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা চালালেও এখনো স্থায়ী সমাধানের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
ডেস্ক রিপোর্ট