ইউক্রেনকে আর বিনামূল্যে অস্ত্র সরবরাহ করবে না যুক্তরাষ্ট্র—এমন ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থ দিয়ে কিয়েভকে অস্ত্র সরবরাহের নীতি বন্ধ করা হয়েছে, যা দেশটির নতুন কৌশলগত অবস্থানকে নির্দেশ করে।
জর্জিয়ায় এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ভ্যান্স জানান, ইউরোপীয় দেশগুলো চাইলে নিজেদের অর্থে অস্ত্র কিনে ইউক্রেনকে সহায়তা দিতে পারে, তবে যুক্তরাষ্ট্র আর সরাসরি অর্থায়ন করবে না। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেন, যা ভবিষ্যতে ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন ফ্রন্টে দুই শতাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ইউক্রেনের একাধিক অঞ্চলে রুশ বাহিনী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে ওডেসা বন্দরসহ অন্তত নয়টি স্থানে বড় ধরনের আক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। এতে বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও আবাসিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনও পাল্টা হামলা জোরদার করেছে বলে দাবি করেছে কিয়েভ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রুশ বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এই প্রতিরোধের মধ্যেও রাশিয়া দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলে অভিযান আরও জোরদার করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে চীন সফরে গিয়ে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইউক্রেনকে ঘিরে ইউরোপে নতুন সামরিক জোট গঠনের চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। তার মতে, রাশিয়াকে প্রতিরোধের দায়িত্ব ইউরোপের ওপর চাপিয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া অঞ্চলে চীনের দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে চাইছে।
ল্যাভরভ আরও বলেন, ইউক্রেনে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য শান্তিরক্ষা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রাশিয়ার নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অবস্থান এবং চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ইউক্রেনের জন্য সামনের দিনগুলোতে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট