যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের অবকাঠামো ও অর্থনীতিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে দেশটির সরকার। প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৩ লাখ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতির হিসাব সামনে এসেছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়। দেশটির সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি রাশিয়ার গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, এটি একটি প্রাথমিক অনুমান এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো নিরূপণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
তিনি বলেন, ক্ষতির মধ্যে রয়েছে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন, অবকাঠামো ও শিল্পকারখানা, পাশাপাশি দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় রাজস্ব ঘাটতির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি সম্প্রতি ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনাতেও তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি, যদিও সেই বৈঠক কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া হামলায় দেশজুড়ে প্রায় ১ লাখ আবাসিক ভবন, ২৩ হাজার ৫০০ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ৯৪২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ৩৩৯টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ মোট ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতি পুনর্গঠনে কয়েক মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের জন্য আবাসন ঋণের মতো সহায়তা ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে সরকার।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের কারণে ইরানে ব্যাপক জনবসতি স্থানচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৬ থেকে ১০ লাখ পরিবারের অন্তত ৩২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের অনেকেই নিরাপত্তার জন্য রাজধানীসহ বড় শহর ছেড়ে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি শুধু ইরানের অর্থনীতিই নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট