যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের একটি তেল শোধনাগারে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। একই সময়ে কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের ড্রোন হামলার অভিযোগও সামনে এসেছে।
ইরানের তেল মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে লাভান দ্বীপে অবস্থিত একটি তেল শোধনাগার ‘শত্রু হামলার’ লক্ষ্যবস্তু হয়। এতে স্থাপনাটিতে আগুন ধরে যায়। ন্যাশনাল ইরানিয়ান ওয়েল রিফাইনারি অ্যান্ড ডিসট্রিবিউশন কোম্পানি জানিয়েছে, ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ দল কাজ করছে।
এই হামলার দায় এখনো কেউ স্বীকার করেনি। এ বিষয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে, ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র নাদাভ শোশানি বলেন, এ ঘটনায় তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
অন্যদিকে, এ ঘটনার পরপরই কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের পক্ষ থেকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ ওঠে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তত ২৮টি ড্রোন প্রতিহত করেছে, যেগুলোর কিছু দেশের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা ও বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। এতে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে সক্রিয় রয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় শোনা বিস্ফোরণের শব্দ মূলত এসব প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের ফল বলে জানানো হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির মাঝেই এমন হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তা জ্বালানি বাজারসহ বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট