যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করে ইরান সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ১০ দফা পরিকল্পনা দিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাময়িক সমঝোতার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সমাধানই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ’র তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে উচ্চপর্যায়ের অভ্যন্তরীণ আলোচনার পর পাকিস্তানের মাধ্যমে এই প্রস্তাব ও জবাব পাঠানো হয়। এতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অতীতের অভিজ্ঞতায় অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি টেকসই হয়নি, ফলে একই ধরনের প্রস্তাবে তারা আর আগ্রহী নয়।
প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনায় ইরান কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা। পাশাপাশি আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তৃত সমাধান এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
সাম্প্রতিক সামরিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইরান এই অবস্থান নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক অভিযান ব্যর্থ হওয়ার পর তারা এখন কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। যদিও এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও এটি আলোচনায় ইরানের অবস্থান শক্তিশালী করার কূটনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানেও কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বলা হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প পূর্বঘোষিত সময়সীমা বাড়িয়েছেন এবং আগের তুলনায় কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন।
বর্তমানে এই প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া জানাতে ওয়াশিংটনের অবস্থান এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার দিকে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি রয়েছে। আগামী দিনগুলোতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার হবে, নাকি উত্তেজনা আরও বাড়বে—তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
ডেস্ক রিপোর্ট