সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় এখন শুধুই কান্নার রোল। উন্নত জীবনের আশায় দালালের হাত ধরে সমুদ্রপথে লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে একই উপজেলার ৪ যুবকের। শনিবার (২৮ মার্চ) এই হৃদয়বিদারক খবর পৌঁছানোর পর নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে তারাপাশা ও রনারচর গ্রামের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। গত রমজানে লিবিয়ার উদ্দেশে ঘর ছাড়া এই টগবগে যুবকদের এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতরা হলেন— দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের আবু সরদারের ছেলে নুরুজ্জামান ময়না (৩৮), আব্দুল গনির ছেলে সাজিদুর রহমান (৩২), মৃত কারী ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহান এহিয়া (২৫) এবং রনারচর গ্রামের মুজিবুর রহমান। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় একটি দালাল চক্রের প্রলোভনে পড়ে তারা ইউরোপের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছিলেন। গত ২১ মার্চ লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে একটি রাবারের নৌকায় তারা গ্রিসের পথে রওনা হন। কিন্তু টানা ছয় দিন উত্তাল সমুদ্রে খাবার ও পানিশূন্য অবস্থায় ভেসে থাকার পর তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
বেঁচে ফেরা সহযাত্রীদের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি জানিয়েছে, নৌকায় থাকা পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো ভূমধ্যসাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ২৬ জনের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি হলেও দিরাইয়ের এই ৪ জনসহ মোট ২২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আইওএম-এর তথ্যমতে, ২০২৬ সালের শুরুতেই ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর হার গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। স্বপ্নের দেশে পৌঁছানোর আগেই সাগরের নোনা জলে মিশে গেল সুনামগঞ্জের এই চার প্রাণের স্বপ্ন।
ডেস্ক রিপোর্ট