ভারত মহাসাগরে ইরানের একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ (ফ্রিগেট) মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ডুবে গেছে। বুধবার (৪ মার্চ) মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই হামলার দায় স্বীকার করেন। এদিকে, শ্রীলঙ্কার উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও নৌবাহিনী জানিয়েছেন, এই ধ্বংসাত্মক হামলায় জাহাজটিতে থাকা অন্তত ৮০ জন আরোহী নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও প্রায় ৬৮ জন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিই কোনো মার্কিন সাবমেরিন দ্বারা শত্রুদেশের জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার প্রথম স্বীকৃত ঘটনা।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বুধবারের ব্রিফিংয়ে জানান, ইরানের ‘আইরিস ডেনা’ (IRIS Dena) নামক যুদ্ধজাহাজটি ভারত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরাপদ মনে করলেও মার্কিন সাবমেরিনের নিখুঁত টর্পেডো হামলায় তা ধ্বংস হয়। হেগসেথ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "ইরানের ওপর হামলা কেবল শুরু হয়েছে, সামনে আরও বড় আকারের আক্রমণ আসছে।" তিনি আরও দাবি করেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানি আকাশসীমার ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ নেওয়ার লক্ষ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী কাজ করছে। পেন্টাগনের মতে, ইরানের নৌ-শক্তিকে পঙ্গু করে দেওয়াই এই অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীর তথ্যমতে, ‘আইরিস ডেনা’ জাহাজটিতে প্রায় ১৮০ জন আরোহী ছিলেন। জাহাজটি ভারত থেকে একটি আন্তর্জাতিক নৌ-মহড়া শেষ করে ফিরছিল। বুধবার ভোরে শ্রীলঙ্কার গলে (Galle) উপকূল থেকে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটি থেকে বিপদ সংকেত পাঠানো হয়। শ্রীলঙ্কান নৌবাহিনী দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও বাকিদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। উদ্ধারকৃতদের বর্তমানে শ্রীলঙ্কার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনাকে যুদ্ধের এক চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।
(সূত্র: বিবিসি ও রয়টার্স)
ডেস্ক রিপোর্ট