ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের চলমান ‘ট্রু প্রমিজ ৪’ (True Promise 4) প্রতিশোধমূলক অভিযানের প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ৬৫০ জন মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে তেহরান এই চাঞ্চল্যকর দাবি করে, যদিও পেন্টাগন বা স্বাধীন কোনো সূত্র এখন পর্যন্ত এই বিপুল সংখ্যক হতাহতের খবর নিশ্চিত করেনি।
আইআরজিসি-র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েনি দাবি করেছেন, পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ইরানি উপকূল ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের চাবাহার উপকূল থেকে প্রায় ২৫০-৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থানরত এই রণতরী লক্ষ্য করে ইরান চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। হামলার মুখে জাহাজটি ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে সরে যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের (5th Fleet) সদর দপ্তরেও দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি-র দাবি অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনায় আঘাতের ফলে প্রায় ১৬০ জন মার্কিন কর্মী হতাহত হয়েছেন। এছাড়া কুয়েত ও কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেও ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে তেহরান।
জেনারেল নায়েনি বলেন, ইরানের নিরবচ্ছিন্ন ড্রোন ও মিসাইল বৃষ্টির কারণে মার্কিন কমান্ড সেন্টারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। তিনি এই অভিযানকে খামেনি ও নাসিরজাদেহ হত্যাকাণ্ডের ‘শুরু মাত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তাদের ৬ জন সেনা নিহতের খবর স্বীকার করলেও ইরানের দাবি করা ‘৬৫০ জন’ হতাহতের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই পরিসংখ্যানের মাধ্যমে মূলত একটি শক্তিশালী ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ (Psychological Warfare) পরিচালনা করছে। তবে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন-এর অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে স্যাটেলাইট ডেটা পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ব মিডিয়া।
ডেস্ক রিপোর্ট