মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় সৌদি আরবসহ ওই অঞ্চলের অন্তত ছয়টি দেশে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। রিয়াদে ড্রোন হামলার পর সেখানকার দূতাবাসসহ কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোর কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য সীমিত বা স্থগিত করা হয়েছে।
রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ইরানি ড্রোন হামলার পর এটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। হামলায় দূতাবাস চত্বরে অগ্নিকাণ্ড ও সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রিয়াদ, জেদ্দা ও ধাহরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের ঘরের বাইরে বের না হতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কুয়েত সিটিতে অবস্থিত দূতাবাস নাগরিকদের জানালার কাছ থেকে দূরে এবং নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বাহরাইনে মার্কিন দূতাবাস তাদের সকল স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থগিত করেছে এবং সতর্ক করেছে যে, আঞ্চলিক উত্তেজনায় বেসামরিক স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
কাতারের আল উদেইদে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে দূতাবাস কর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের বলা হয়েছে, আকাশসীমায় যেকোনো সময় ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশ করতে পারে, তাই সাইরেন বা সতর্ক সংকেত শোনামাত্র বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে হবে।
ইসরায়েলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের নাগরিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বলেছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে দেশত্যাগে সহায়তার সক্ষমতা সীমিত হয়ে আসতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট একযোগে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশের জন্য ভ্রমণ–সতর্কতা (Travel Advisory) জারি করেছে। যেসব মার্কিন নাগরিক বর্তমানে এই দেশগুলোতে অবস্থান করছেন, পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আগেই তাদের নিজ উদ্যোগে বা বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দেশ ছাড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট