মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্তত ১৫টি দেশ ও তাদের সামরিক অবস্থানে নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) দাবি করেছে, বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে তাদের হামলায় এখন পর্যন্ত ৫৬০ জন মার্কিন সৈন্য হতাহত হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্যমতে, মার্কিন রণতরী 'আব্রাহাম লিংকন' লক্ষ্য করে ইরান চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যাতে ৩ মার্কিন সেনা নিহত ও ৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শনিবারের ভয়াবহ হামলার ধারাবাহিকতায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতাসহ ৪৮ জন শীর্ষ নেতৃত্ব নিহত হয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরান এখন আলোচনায় বসতে চাচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও তাতে আগ্রহী। তবে ইতালির মাধ্যমে পাঠানো ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইরান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানা গেছে। এদিকে, ইসরায়েল ১ লক্ষ রিজার্ভ সেনা মোতায়েন করে উত্তর সীমান্তে জড়ো করছে এবং গত ৩০ ঘণ্টায় ইরানে ২,০০০-এর বেশি বোমা ও মিসাইল নিক্ষেপ করেছে।
যুদ্ধের ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে সাধারণ মানুষের ওপর। ইরানের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় নিহত শিশুর সংখ্যা বেড়ে ১৬৭ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েলের হাইফাসহ অন্তত ৪০টি এলাকায় হাইপারসনিক মিসাইল দিয়ে আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন বলে সিএনএন জানিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত তেহরানে তাদের দূতাবাস বন্ধ করে রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
ইরাকের পরিস্থিতিও অত্যন্ত উত্তপ্ত; বাগদাদের গ্রিন জোনে মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও করেছে হাজারো জনতা। ইরবিলে মার্কিন বিমানঘাঁটির গোলাবারুদের গুদামে ইরানি ড্রোন হামলায় বিশাল অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। ইরানের পুলিশ প্রধান জেনারেল আহমদ রেজা রাদান দেশটিতে ‘যুদ্ধাবস্থা’ ঘোষণা করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বর্তমানে তেহরানজুড়ে সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে শোক মিছিল চললেও ইরান আজ সারা রাত সর্বশক্তি দিয়ে পাল্টা আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট