মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এক নজিরবিহীন ও চরম উত্তেজনাকর মোড় নিয়েছে। সোমবার (০২ মার্চ) ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এবং ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর কমান্ডারের অবস্থান লক্ষ্য করে অত্যন্ত উন্নত ‘খাইবার শেকান’ (Khyber Shekan) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এই হামলাকে ‘আকস্মিক ও সুনির্দিষ্ট’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।
আইআরজিসি-র বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, এই নিখুঁত হামলার পর প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পরিণতি এখন ‘অনিশ্চয়তার মেঘে আচ্ছন্ন’ এবং তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, শনিবার থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর আওতায় এটি ছিল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ১০ম ধাপ। মূলত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহতের প্রতিশোধ নিতেই এই ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান অবস্থান নিয়ে বিশ্বজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে। আল জাজিরা ও জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএ (dpa) নিশ্চিত করেছে যে, ইসরায়েলের সরকারি বিমান ‘উইং অফ জায়ন’ (Wing of Zion)-কে নিরাপত্তার খাতিরে জার্মানির বার্লিন বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে জার্মানি সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যায় যখন বিমানটি বার্লিনে অবতরণ করে, তখন তাতে শুধুমাত্র ক্রু সদস্যরা ছিলেন; নেতানিয়াহু বা অন্য কোনো ইসরায়েলি কর্মকর্তা ওই বিমানে ছিলেন না।
ইসরায়েল সরকার এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা নেতানিয়াহুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। তবে ইসরায়েলি মিডিয়া জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তেল আবিব ও হাইফার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও সামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, নেতানিয়াহু বর্তমানে কোনো সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে অবস্থান করছেন কি না, তা নিয়েও সংবাদমাধ্যমগুলোতে আলোচনা চলছে।
ডেস্ক রিপোর্ট