মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তেহরানের প্রতি সরাসরি প্রকাশ্য সমর্থন ঘোষণা করেছে বেইজিং। সোমবার (০২ মার্চ) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এক বিশেষ ফোনালাপে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরানকে পূর্ণ সমর্থন দেয় চীন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি (CCTV) এই চাঞ্চল্যকর ফোনালাপের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ওয়াং ই আরাগচিকে আশ্বস্ত করে বলেন, “চীন ও ইরানের ঐতিহ্যগত বন্ধুত্ব অত্যন্ত গভীর। ইরানের নিরাপত্তা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় বেইজিং সব সময় পাশে থাকবে।” তিনি অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে তাদের সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ওয়াশিংটনকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
একই দিনে ওমান ও ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও পৃথকভাবে কথা বলেন ওয়াং ই। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ যুদ্ধ উসকে দিয়ে জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা লঙ্ঘন করছে। অন্যদিকে, ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারোকে সতর্ক করে ওয়াং বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্বকে ‘জঙ্গলের আইনে’ (Law of the Jungle) ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “কোনো প্রধান শক্তি কেবল সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের জোরে অন্য দেশের ওপর ইচ্ছামতো হামলা চালাতে পারে না।”
গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল, উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটি এবং সাইপ্রাসে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বর্তমান সংঘাতের তীব্রতা এতটাই বেশি যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন এই যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। বেইজিংয়ের এই শক্ত অবস্থান যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
ডেস্ক রিপোর্ট