হরমুজ প্রণালিতে তেল-এলএনজি ট্যাংকারের জট: বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার শঙ্কা
- আপলোড সময় : ০১-০৩-২০২৬ ০৭:৩৪:৪৫ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০১-০৩-২০২৬ ০৭:৩৯:৪২ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৫১ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিমান হামলার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। কৌশলগত এই জলপথের দুই প্রান্তে শতাধিক অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি বহনকারী ট্যাংকার আটকা পড়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ চেইনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
জাহাজ ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম MarineTraffic-এর তথ্যের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অন্তত ১৫০টি বড় ট্যাংকার বর্তমানে প্রণালির বাইরে খোলা সমুদ্রে নোঙর করে অপেক্ষা করছে। এসব জাহাজের বড় অংশই অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহন করছে। প্রণালির অপর দিকেও কয়েক ডজন জাহাজ স্থির অবস্থায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিপিং বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পর পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল নতুন করে যুদ্ধঝুঁকিতে পড়ায় জাহাজ মালিকরা নিরাপত্তাজনিত কারণে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। অধিকাংশ জাহাজ ইরাক, সৌদি আরব ও কাতার উপকূলসংলগ্ন এলাকায় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে অবস্থান করছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই ‘চোকপয়েন্টে’ অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা জোরদার হয়েছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ইতোমধ্যে অপেক্ষমাণ জাহাজগুলোকে অনেকে ‘ভাসমান তেলের পাহাড়’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।
নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে কয়েকটি শীর্ষ তেল কোম্পানি ও ট্রেডিং হাউস সাময়িকভাবে এ রুটে জাহাজ চলাচল স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এতে কাতারের মতো এলএনজি রপ্তানিনির্ভর দেশ এবং সৌদি আরবের মতো বড় তেল উৎপাদনকারী দেশের রপ্তানি কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সংকট কেবল জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানার ব্যয় ও বৈশ্বিক পণ্য পরিবহন খরচও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।