ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকায় মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপজুড়ে স্মরণকালের অন্যতম বৃহত্তম সামরিক শক্তি সমাবেশ করেছে পেন্টাগন। চলতি সপ্তাহে শতাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান এই অঞ্চলে পৌঁছেছে, যা ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ের প্রস্তুতির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ড (EUCOM) ও সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) সম্মিলিতভাবে প্রায় ২০০টির বেশি উন্নত জেট এবং শতাধিক রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার বিমান মোতায়েন করেছে। তেহরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে এই বিশাল রণসজ্জাকে দেখা হচ্ছে।
নৌবাহিনীর শক্তিমত্তা বাড়াতে ইতিমধ্যে পারস্য উপসাগর ও আরব সাগর সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’। এর পাশাপাশি ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসছে বিশ্বের বৃহত্তম ও সর্বাধুনিক রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’। এই দুটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপে ১২০টিরও বেশি শক্তিশালী যুদ্ধবিমান এবং কয়েক হাজার নৌসেনা রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, গত কয়েক দিনে মার্কিন বিমানবাহিনী ইউরোপের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে অন্তত ১০৮টি ট্যাঙ্কার বিমান মোতায়েন সম্পন্ন করেছে, যা সুদূরপাল্লার এবং দীর্ঘস্থায়ী বিমান হামলার সক্ষমতাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
২০২৩ সাল পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মধ্যে এই মোতায়েনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার বিমানের সংখ্যা ২০০৩ সালের ‘অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম’-এর সময়কার ১৪৯টির কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, ওয়াশিংটন কেবল সতর্কবার্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক অস্থিরতা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য এই ‘গানবোট ডিপ্লোম্যাসি’ বা সামরিক শক্তির মহড়া দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট