শীতের বিদায় ও বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে পরিবর্তনের হাওয়া লাগলেও সামনের দিনগুলোতে বিরূপ আবহাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত তিন মাসের দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের ওপর দিয়ে একাধিক তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখীর শঙ্কা:
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষার্ধ থেকেই দেশের কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। মার্চ ও এপ্রিল মাসে কালবৈশাখীর দাপট বাড়বে। এই সময়ে অন্তত ৪ থেকে ৮ দিন বজ্র ও শিলাবৃষ্টিসহ হালকা থেকে মাঝারি এবং ১ থেকে ৩ দিন তীব্র কালবৈশাখী ঝড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মার্চের শেষভাগ থেকে দেশজুড়ে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে। পূর্বাভাস অনুযায়ী:
- মৃদু ও মাঝারি তাপপ্রবাহ: দেশে ৩ থেকে ৫টি মৃদু (৩৬–৩৭.৯°সে.) বা মাঝারি (৩৮–৩৯.৯°সে.) তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
- তীব্র তাপপ্রবাহ: এছাড়া ১ থেকে ২টি তীব্র তাপপ্রবাহের (৪০–৪১.৯°সে.) আশঙ্কা রয়েছে, যা জনজীবনে অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলতে পারে।
সাগর উত্তাল ও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি:
এপ্রিল মাসের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে ২ থেকে ৩টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে অন্তত একটি লঘুচাপ ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপ অথবা পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এই সময়ে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন হতে পারে।
সার্বিকভাবে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকতে পারে। কৃষিবিদরা এই সময়ে সেচ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট