আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে রয়টার্সকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ চাইলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্তানরাও রাজনীতিতে ফিরতে পারেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, যদি জনতা কাউকে স্বাগত জানায়, তবে যে কারও রাজনীতি করার গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। তবে একই সাথে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনে জয়ী হলেও জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো ‘ঐক্য সরকার’ গঠন করবে না বিএনপি। তার মতে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সাথে সরকার গঠন করলে দেশে কার্যকর কোনো বিরোধী দল থাকবে না।
সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বিএনপির জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করে বলেন, এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন তাদের দল পাবে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এবং চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি অত্যন্ত কৌশলগত উত্তর দেন। তিনি জানান, নির্দিষ্ট কোনো দেশের দিকে ঝুঁকে পড়া নয়, বরং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বজায় রেখে যারা দেশের তরুণদের কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই বন্ধুত্ব রাখবে বিএনপি। প্রায় ১৭ কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য যোগ্য অংশীদার বেছে নেওয়াই হবে তার সরকারের মূল লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই বিএনপি নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে সরব ছিল। বর্তমানে শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে দণ্ডিত এবং তার দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকলেও তার সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারেক রহমানের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন, আগামী দিনে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করাই হবে তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
ডেস্ক রিপোর্ট