শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু তদন্তে জাতিসংঘের সহায়তা নিতে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ শুরু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে সংস্থাটির কাছে চিঠি পাঠানো হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এদিকে, শুক্রবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে অবস্থান নেওয়া ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে সরকারের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তথ্যের বরাতে সরকার স্পষ্ট করেছে যে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা রক্ষায় কেবল জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, যমুনা ও এর সংলগ্ন এলাকায় জনসভা ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ প্রথমদিকে ধৈর্য প্রদর্শন করে। তবে আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে জলকামানের ওপর উঠে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে বল প্রয়োগ করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, আহত ২৩ জনের কারোর শরীরেই গুলির আঘাত পাওয়া যায়নি। সরকার স্পষ্ট করেছে যে, প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা প্রশাসনের সাংবিধানিক দায়িত্ব এবং সেই লক্ষ্যেই পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করেছে।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে সরকার সব পক্ষকে ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে স্থিতিশীল রাখতে এবং একটি অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যাশার এই নির্বাচনকে কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ হতে দেওয়া হবে না বলেও বিবৃতিতে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।