বেলুচিস্তানে বিদ্রোহীদের সঙ্গে রণক্ষেত্র: ড্রোন ও হেলিকপ্টার অভিযানে মুক্ত নুশকি
- আপলোড সময় : ০৫-০২-২০২৬ ০৯:৫৭:৪৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৫-০২-২০২৬ ০৯:৫৭:৪৯ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৪০ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীদের সঙ্গে টানা তিন দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর একটি মরু শহরের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ জানিয়েছে, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে নুশকি শহরের দখল ফিরে পাওয়া গেছে। গত সপ্তাহের শেষভাগে শুরু হওয়া এই নজিরবিহীন সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ২২ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
শনিবার ভোরে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী 'বেলুচ লিবারেশন আর্মি' (বিএলএ) ‘অপারেশন হেরোফ ২.০’ নামে একযোগে ডজনেরও বেশি স্থানে হামলা শুরু করলে পুরো বেলুচিস্তান স্থবির হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ৫০ হাজার মানুষের শহর নুশকিতে বিদ্রোহীরা থানা ও বিভিন্ন প্রশাসনিক ভবন দখল করে নিলে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ তিন দিনের এই অচলাবস্থা নিরসনে পাকিস্তান সেনাবাহিনী অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে এবং আকাশপথে ড্রোন ও হেলিকপ্টার দিয়ে হামলা চালায়। সোমবার গভীর রাতে নুশকির নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার আগে লড়াইয়ে সাতজন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারান।
সেনাবাহিনী দাবি করেছে, পাল্টা অভিযানে এ পর্যন্ত ১৯৭ জন উগ্রবাদী নিহত হয়েছে। প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার সুরক্ষিত এলাকায় প্রশাসনিক ভবনের কাছে শক্তিশালী বিস্ফোরণে বুধবার সকালেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিএলএ যোদ্ধারা এবার স্কুল, ব্যাংক ও বাজারের মতো সাধারণ স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে, যা তাদের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও বেলুচিস্তান পাকিস্তানের অন্যতম দরিদ্র ও অবহেলিত প্রদেশ হিসেবে পরিচিত। মূলত অধিক স্বায়ত্তশাসন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ন্যায্য হিস্যার দাবিতে কয়েক দশক ধরে জাতিগত বেলুচ বিদ্রোহীরা সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে আসছে।
বিএলএ এই অভিযানে ২৮০ জন সেনাকে হত্যার দাবি করলেও পাকিস্তান সরকার তা ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এই হামলার পেছনে ভারতের মদত রয়েছে বলে ইসলামাবাদ অভিযোগ করলেও দিল্লি তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। বর্তমানে নুশকি শহরের নিয়ন্ত্রণ ফিরে এলেও প্রদেশের অন্যান্য অঞ্চলে বিদ্রোহীদের দমনে সেনাবাহিনীর চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
(সূত্র: রয়টার্স)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।