দীর্ঘদিন ধরে চলা বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে বসার প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একাধিক কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ওয়াশিংটন তেহরানকে আলোচনার এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। তবে এই সম্ভাব্য সংলাপে বসার ক্ষেত্রে মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তিনি মার্কিন শর্ত মেনে তার প্রতিনিধিদের আলোচনার টেবিলে বসার অনুমতি দেবেন কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।
মার্কিন প্রশাসনের এই আলোচনার আগ্রহকে বাস্তবে রূপ দিতে বর্তমানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে তুরস্ক, মিশর ও কাতার। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এই তিন দেশ যৌথভাবে চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি সরাসরি আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করার চেষ্টা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সৃষ্ট উদ্বেগ নিরসনে এই বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকলেও জাতীয় নিরাপত্তা ও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না। অন্যদিকে, ইরান বারবার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি তুলে আসছে। এর আগে ওমান বা অন্যান্য দেশে পরোক্ষ আলোচনা হলেও, আঙ্কারার এই সম্ভাব্য বৈঠকটি সফল হলে তা দুই দেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে নতুন মোড় নিতে পারে। তবে সবকিছুই এখন নির্ভর করছে তেহরানের সবুজ সংকেতের ওপর।
সূত্র: Axios
ডেস্ক রিপোর্ট