ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি পরমাণু ইস্যুতে আলোচনার পথ খোলা রাখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন না পড়ুক—এটাই তার প্রত্যাশা।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তার প্রথম মেয়াদে মার্কিন সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছিল এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, একটি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তবে সেটি ব্যবহার করতে না হলেই ভালো হবে।
ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও পরিকল্পনা দুটোই রয়েছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রস্তুত থাকলেও অগ্রাধিকার হচ্ছে তা ব্যবহার না করা।
এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তিনি জানান, ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে—সে লক্ষ্য অর্জনে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প এখনো বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনায় রাখছেন।
ইরান ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইউএস নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস ডেলবার্ট ডি. ব্ল্যাক ওই অঞ্চলে প্রবেশ করেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা বেড়ে ছয়টিতে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে একটি বিমানবাহী রণতরী ও তিনটি লিটোরাল কমব্যাট শিপও মোতায়েন রয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কার মধ্যে ইরান জানিয়েছে, তারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে জানা গেছে, দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নায়েনি বলেছেন, সম্ভাব্য সব ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে আঞ্চলিক শক্তিগুলো। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ভুল সিদ্ধান্ত হবে এবং এখনো কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির আঙ্কারা সফরের কথা জানানো হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট