মিয়ানমারে জান্তা সরকারের বর্বরোচিত বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৭ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) পৃথক দুটি ঘটনায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান ও একটি শেষকৃত্য সভায় এই নারকীয় হামলা চালানো হয়। শুক্রবার স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতী। গত কয়েক মাস ধরে বিদ্রোহী দমনে মরিয়া জান্তা বাহিনী সাধারণ মানুষের জমায়েত লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রথম ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে কাচিন রাজ্যের ভামো টাউনশিপের কাউং জার গ্রামে। সেখানে একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলাকালীন অতর্কিত বিমান হামলা চালায় জান্তা বাহিনী। এতে ঘটনাস্থলেই ২২ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও ২৮ জন। গ্রামটি মূলত যুদ্ধাহত বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর আশ্রয়স্থল ছিল। কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মির (কেআইএ) মুখপাত্র কর্নেল নও বু দাবি করেছেন, ওই গ্রামে তাদের কোনো সদস্য ছিল না; জান্তা বাহিনী জেনেশুনে সাধারণ মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে।
একই দিনে মাগওয়ে অঞ্চলের আউংলান টাউনশিপে একটি বিয়ের প্রস্তুতির সময় জড়ো হওয়া মানুষের ওপর বোমা বর্ষণ করা হয়। এতে এক শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হন। এছাড়া সম্প্রতি রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি পরিচালিত একটি কারাগারেও বিমান হামলা চালায় জান্তা বাহিনী, যেখানে জান্তা সদস্যসহ ২১ জন নিহত হন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এসব ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করে মিয়ানমার সামরিক জান্তার ওপর বৈশ্বিক চাপ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে। (সূত্র: দ্য ইরাবতী)
ডেস্ক রিপোর্ট