ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর সম্প্রতি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যে বড় ধরনের উল্লম্ফন এবং সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় এই পদক্ষেপ নিল সরকার।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অর্থমন্ত্রী। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী; বাণিজ্যমন্ত্রী; প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং খাদ্যমন্ত্রী। কমিটির মূল কাজ হবে বিশ্বের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিরূপণ করা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো তেল উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ার ফলে যে সরবরাহ সংকট তৈরি হচ্ছে, তা থেকে দেশের অর্থনীতিকে রক্ষা করতে কার্যকর ‘সংকট ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা’ প্রণয়ন করবে এই কমিটি।
কমিটির কার্যপরিধিতে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী কমিটি যেকোনো সময় সভা করতে পারবে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত সদস্য অন্তর্ভুক্ত (কো-অপ্ট) করার ক্ষমতাও রাখা হয়েছে। অর্থ বিভাগ এই শক্তিশালী কমিটিকে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়ে মুদ্রাস্ফীতির ওপর যে চাপ তৈরি হতে পারে, তা নিয়ন্ত্রণে এই কমিটির সময়োপযোগী পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডেস্ক রিপোর্ট