মুক্তিকামী জনতার উত্থান দেখে কেউ কেউ অস্বস্তিতে পড়েছে এবং ফুসফাস শুরু করেছে—এমন মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমরা নাক গলাবো না, কিন্তু আমাদের বিষয়ে নাক অনেক গলানো হয়েছে—এটা আর চলবে না।”
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের জেলে “ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা” করা হয়েছে। তিনি প্রয়াত আমিরে জামায়াত মতিউর রহমান নিজামী ও সাবেক এমপি মাওলানা আব্দুস সোবহানের কথা উল্লেখ করে বলেন, তারা যে আকাঙ্ক্ষা রেখে গেছেন, জামায়াত আজ সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমরা কি আবার সেই ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনতে চাই?”—এবং সবাইকে এর বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘদিন মজলুম থাকলেও কেউ যেন জালিমের ভূমিকায় না আসে।
চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, তার দল কখনো চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য বা দুর্নীতিতে জড়ায়নি। “সাড়ে তিন কোটি কর্মীর সংগঠন আল্লাহর দয়া ছাড়া টিকে থাকা সম্ভব নয়,”—বলে দাবি করেন তিনি। অতীতে এক হাজারের বেশি নেতাকর্মী নিহত ও শত শত গুমের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
৫ আগস্টের পর দখল ও চাঁদা আদায়ের প্রবণতার সমালোচনা করে ডা. শফিক বলেন, এগুলো ভালো লক্ষণ নয়। জামায়াত সরকার গঠন করলে চাঁদাবাজদের হাত বন্ধ করা হবে এবং মানুষের জন্য হালাল রুজির ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। তাঁর ভাষায়, “সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে চলার পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।”
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানেই আজাদি। সব দলের জন্য সমান আইন ও সমান সম্মান নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি। “আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করি না—বস্তাপচা রাজনীতিকে লালকার্ড দেখাতে হবে,”—বলেও ঘোষণা দেন জামায়াত আমির।
জনসভায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খানের সঞ্চালনায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেস্ক রিপোর্ট