ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আসনভিত্তিক ভোটকেন্দ্র, ভোটকক্ষ ও ভোটার সংখ্যার চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ কার্যক্রম শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবারের নির্বাচনে একই সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোট ব্যবস্থাপনাকে সহজ করতে কেন্দ্রভিত্তিক বিভিন্ন তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে, যার মধ্যে পোস্টাল ব্যালট গণনার জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের উপ-সচিব মনির হোসেন জানান, কমিশনের অনুমোদনের পর গত ১৫ জানুয়ারি থেকে পর্যায়ক্রমে নির্বাচনি আসন অনুযায়ী চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব তথ্য এতে যুক্ত করা হচ্ছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের তারিখের অন্তত ২৫ দিন আগে ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা গেজেটে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। সে অনুযায়ী আইনগত সময়সীমা মেনেই গেজেট প্রকাশ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসি।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ। এসব ভোটারের জন্য সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রে ২ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি ভোটকক্ষ স্থাপন করা হচ্ছে। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রতিটি ভোটকক্ষে গোপনীয়ভাবে সিল দেওয়ার জন্য মার্কিং প্লেসের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।
ইসির আদেশক্রমে উপসচিব (নির্বাচন সহায়তা সরবরাহ) মো. হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত গেজেটে প্রতিটি নির্বাচনি এলাকার নাম, সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও ইউনিয়ন, ভোটকেন্দ্রের নাম ও অবস্থান, ভোটার এলাকার নম্বর, কেন্দ্রভিত্তিক ভোটার সংখ্যা (পুরুষ, নারী ও হিজড়া) এবং ভোটকক্ষের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি গোপনকক্ষের বাড়তি সংখ্যার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার আওতায় নিবন্ধিত ভোটারদের তথ্যও গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে স্থাপিত পোস্টাল ব্যালট পেপার গণনা কেন্দ্রের নাম ও অবস্থান, এবং সেখানে অন্তর্ভুক্ত পুরুষ, নারী ও হিজড়া ভোটারের সংখ্যাও এতে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বচ্ছতা ও সুশৃঙ্খল ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই বিস্তারিত তথ্য আগেভাগে প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে ভোটার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট