মুসলিম নারী চিকিৎসকের নিকাব টেনে সরিয়ে তোপের মুখে নীতীশ কুমার: পদত্যাগের দাবি
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১৭-১২-২০২৫ ১১:৪২:০৬ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৭-১২-২০২৫ ১১:৪৩:০৬ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৩৩ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের বিহার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও জেডিইউ প্রধান নীতীশ কুমার এবার এক নারী চিকিৎসকের নিকাব টেনে সরিয়ে দিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) পাটনায় আয়োজিত এক সরকারি অনুষ্ঠানে নিয়োগপত্র প্রদানকালে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। ৭৪ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদের এমন আচরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তোলপাড়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
ভিডিওতে দেখা যায়, আয়ুষ (AYUSH) প্রকল্পের আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত এক মুসলিম নারী চিকিৎসক মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে সার্টিফিকেট নিতে মঞ্চে ওঠেন। এ সময় নীতীশ কুমার ইশারায় তাকে নিকাব সরাতে বলেন। ওই নারী চিকিৎসক তাতে সায় না দিলে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই হাত বাড়িয়ে তার নিকাব নিচে টেনে নামিয়ে দেন, যাতে ওই নারীর মুখমণ্ডল স্পষ্ট দেখা যায়। এ সময় বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গেলেও নীতীশের এই আচরণে উপস্থিত কয়েকজনকে হাসতে দেখা যায়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিহারের বিরোধী দলগুলো নীতীশ কুমারের কঠোর সমালোচনা শুরু করেছে। রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) এক বিবৃতিতে বলেছে, বিজেপি ও জেডিইউ জোট নারীর অধিকারের নামে যে রাজনীতি করছে, এটি তার প্রকৃত রূপ। আরজেডি আরও মন্তব্য করেছে যে, মুখ্যমন্ত্রীর মানসিক অবস্থা বর্তমানে সংকটাপন্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। কংগ্রেস এই ঘটনাকে 'জঘন্য' ও 'লজ্জাজনক' আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে নীতীশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, বিহারের সর্বোচ্চ পদে থাকা ব্যক্তি যদি প্রকাশ্যে এমন আচরণ করেন, তবে সাধারণ নারীরা রাজ্যে কতটা নিরাপদ?
উল্লেখ্য, নীতীশ কুমারের এই ধরনের বিতর্কিত আচরণ এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত নভেম্বরে একটি জনসভায় এক নারীকে মালা পরানো কেন্দ্রিক ঘটনায় তিনি সমালোচিত হয়েছিলেন। সর্বশেষ এই ঘটনাটি ধর্মীয় অনুভূতি ও নারীর ব্যক্তিগত পছন্দে আঘাত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা, যা নিয়ে ভারতজুড়ে এখন সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় বইছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।