আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ ২২তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিতে যাচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ ও রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় ইতোমধ্যে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থী প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
মঙ্গলবার সকাল ১০টার পর ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেলে তিনি সাক্ষ্য দেবেন; প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। আবু সাঈদ হত্যা মামলায় মোট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে বিচার চলছে, যাদের অন্যতম বেরোবির সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদ; বর্তমানে এএসআই আমির হোসেন, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজসহ ছয়জন কারাবন্দি, বাকি ২৪ জন পলাতক।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গণ-অভ্যুত্থানের সময় রংপুরে বিক্ষোভ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে আবু সাঈদ নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মামলার তদন্ত শুরু হয়; তদন্ত শেষে গত ২৪ জুন প্রতিবেদন দাখিল এবং ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল; চলতি বছরের ২৭ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়, যেখানে মোট সাক্ষীর সংখ্যা ধরা হয়েছে ৬২ জন।
এরই মধ্যে আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন, একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, কারমাইকেল কলেজের ছাত্র ইমরান আহমেদ এবং জুলাই আন্দোলনের নেতা আকিব রেজা খানসহ প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন; তারা গুলিবর্ষণ, আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া, পরে পুলিশের হাতে লাশ ছিনিয়ে নেওয়া ও তৎকালীন কর্মকর্তাদের নির্দেশনার বিস্তারিত বর্ণনা করেন। বিভিন্ন পর্যায়ে এসআই আশরাফুল ইসলাম, নায়েক আবু বকর সিদ্দিক, মিঠাপুকুর থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিক, রংপুর কোতোয়ালি জোনের তৎকালীন এসি আরিফুজ্জামান ও তাজহাট থানার ওসি রবিউল ইসলামের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে, যা এখন ট্রাইব্যুনালের বিচারিক পর্যালোচনার অপেক্ষায়।
অপরদিকে পলাতক আসামিদের স্বার্থরক্ষায় রাষ্ট্র খরচে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল; তারা ধারাবাহিকভাবে সাক্ষীদের জেরা করছেন এবং অভিযোগ গঠনের শুনানিতেও অংশ নেন। কয়েক দফা সাক্ষী হাজির না হওয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পেছালেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জবানবন্দি ও জেরা নিয়মিত এগোচ্ছে; আজকের কার্যক্রমের মাধ্যমে মামলাটির সাক্ষ্যপ্রক্রিয়া আরেক ধাপ এগোবে বলে আইনজীবী ও পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
ডেস্ক রিপোর্ট