সুদানের গৃহযুদ্ধে আঞ্চলিক শক্তির সম্পৃক্ততা, মানবিক সংকট আরও গভীর
- আপলোড সময় : ২১-১১-২০২৫ ১১:২৫:৩৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২১-১১-২০২৫ ১১:২৫:৩৮ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৩২ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
সুদানের চলমান গৃহযুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সম্পৃক্ততা দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইরানের অস্ত্র সহায়তা পাচ্ছে সুদানের সেনাবাহিনী—এমন তথ্য পাওয়া গেছে একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদন থেকে। পাশাপাশি সৌদি আরব, মিশর ও তুরস্কও খোলাখুলিভাবে সেনাবাহিনীকে সমর্থন দিচ্ছে। অপরদিকে, দারফুরে নৃশংসতা ও গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত দ্রুত সমর্থন বাহিনী (RSF)–কে অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। বহিরাগত প্রভাব বিস্তারের এই প্রতিযোগিতা সুদানের যুদ্ধকে আরও জটিল করে তুলছে।
দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে দেশটিতে মানবিক সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং সহায়তার জন্য জরুরি তহবিল প্রয়োজন বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি জানায়, উত্তর দারফুরের রাজধানী এল-ফাশের দখলের পর আরএসএফের হামলায় শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্প্রতি আরএসএফের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা এবং সম্ভাব্য সম্পদ জব্দের সিদ্ধান্ত।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই গৃহযুদ্ধ এখন শুধু সুদানকেই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার ক্ষমতার সমীকরণকে উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে দেওয়ার মতো ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। ইরানের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেলে লোহিত সাগর ঘিরে নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। হুতি বিদ্রোহীদের জন্য সমুদ্রপথে নতুন রুট খুলে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে, সুদান আবারও হামাস ও হিজবুল্লাহর অস্ত্র সরবরাহের ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো।
মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। অক্টোবরের শেষ দিকে সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলগুলো থেকে এক লাখের বেশি মানুষ পালিয়ে যায়। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক কর্মকর্তারা এল-ফাশেরসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে “ক্রাইম সিন” বলে উল্লেখ করেছেন। আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা শান্তির প্রচেষ্টা জোরদারের কথা বললেও সুদানের যুদ্ধ যে বহুমুখী আঞ্চলিক ক্ষমতার লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে, তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।