সুদানকে অস্থির করছে আমিরাত? আরএসএফ-কে চীনা ড্রোনসহ অস্ত্র সরবরাহের দাবি মার্কিন গোয়েন্দাদের
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ০২-১১-২০২৫ ০৩:৫৩:২২ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০২-১১-২০২৫ ০৩:৫৩:২২ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৪৩ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সম্প্রতি সুদানের বিদ্রোহী আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) কাছে চীনা ড্রোনসহ অত্যাধুনিক অস্ত্রের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত এই তথ্য পেয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (WSJ)। এই সরবরাহ এমন একটি গোষ্ঠীর কাছে যাচ্ছে যাদের বিরুদ্ধে দারফুরে 'গণহত্যার' অভিযোগ রয়েছে। সরবরাহকৃত অস্ত্রের মধ্যে উন্নত মানের চীনা তৈরি ড্রোন, কামান, হাউইটজার এবং গোলাবারুদ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি সুদান সংকটে আরএসএফ-এর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ইউএই-এর ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের গোয়েন্দা বিভাগ এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে এই অস্ত্র সরবরাহ বৃদ্ধির তথ্য নিশ্চিত করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং WSJ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরবরাহকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে আরব আমিরাতের অর্থায়নে কেনা উন্নত চীনা তৈরি ড্রোন, হালকা ও ভারী মেশিনগান, যানবাহন, কামান, মর্টার এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিশেষত চীনের তৈরি জিবি–৫০এ গাইডেড বোমা এবং ১৫৫ মিলিমিটার এইচ-৪ হাউইটজার কামান দারফুরে পাঠানোর কথা জানিয়েছে।
বর্তমানে আরএসএফ-কে যে ড্রোন সরবরাহ করা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে চীনা সরকারি ঠিকাদার ‘চায়না অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি করপোরেশন’-এর তৈরি ‘রেইনবো সিরিজ’-এর ড্রোন। এর মধ্যে ‘সিএইচ-৯৫’ মডেলের ড্রোন ২৪ ঘণ্টা টানা উড়তে পারে এবং সুনির্দিষ্ট হামলা চালাতে সক্ষম, যা আরএসএফ-কে খার্তুমের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর দারফুর অঞ্চলে পুনরায় আক্রমণ শুরু করতে সাহায্য করছে।
আরব আমিরাতের এই সামরিক সহায়তা বৃদ্ধির পেছনে সময়কালটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য মতে, মার্চের পরে এই সহায়তা আরও বাড়ে, যখন ইরান, তুরস্ক ও মিসরের সমর্থনে সুদানি সেনাবাহিনী রাজধানী খার্তুমের নিয়ন্ত্রণ পুনরায় নিতে শুরু করে। মে মাসে আরএসএফ আরব আমিরাতের কাছ থেকে পাওয়া চীনা ড্রোন ব্যবহার করে সরকার-নিয়ন্ত্রিত বন্দরনগরী পোর্ট সুদানে হামলা চালায়, যাতে তুর্কি সেনা বিশেষজ্ঞ দলের কয়েকজন আহত হন।
লিবিয়া, চাদ, উগান্ডা এবং সোমালিয়ার বিচ্ছিন্ন অঞ্চল হয়ে একটি জটিল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আরব আমিরাত আরএসএফের কাছে অস্ত্র পাঠাচ্ছে বলে মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনেও উঠে এসেছিল।
এই অস্ত্র সরবরাহ বৃদ্ধির ফলস্বরূপ, আরএসএফ গত সপ্তাহে উত্তর দারফুরের গুরুত্বপূর্ণ শহর এল-ফাশেরে হামলা চালায় এবং পরে বেসামরিক মানুষদের হত্যার ভিডিও প্রকাশ করে। এই আক্রমণ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পরপরই ঘটেছে। দারফুর অঞ্চলটি আরএসএফের পূর্বসূরি ‘জানজাওয়িদ’ মিলিশিয়ার ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
আরএসএফ নেতা মোহাম্মদ হামদান দাগালো, যিনি ‘হেমেদতি’ নামে পরিচিত, তিনি আরব আমিরাতের ঘনিষ্ঠ মিত্র। তার বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের মূল কেন্দ্র হলো দুবাই। জানা যায়, হেমেদতি এবং তার পরিবার দারফুরের স্বর্ণখনি থেকে উত্তোলন করা বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ আরব আমিরাত হয়ে পাচার করে আসছে। এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই সুদানের গৃহযুদ্ধে আমিরাতের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।