যশোরে জালিয়াতির মাধ্যমে চারটি মাইক্রোবাস আত্মসাতের অভিযোগে আজিজুল হক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের সদস্য শাহীনুজ্জামান এ মামলা করেন। আদালতে অভিযোগ গ্রহণ করে ঝিকরগাছা থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বর্ণালী রানী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী রুহিন বালুজ।
মামলার নথি অনুসারে, চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের কোটপাড়ার বাসিন্দা শাহীনুজ্জামান ফল ও পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ব্যবসায়িক সম্পর্কের সূত্রে ২০২২ সালে তার পরিচয় হয় কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার ঘোড়াকান্দা গ্রামের সিরাজুল হকের ছেলে আজিজুল হকের সঙ্গে। এরপর ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত শাহীনুজ্জামান প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি রিকন্ডিশন্ড মাইক্রোবাস ক্রয় করেন এবং নিজ নামে রেজিস্ট্রেশন করেন। তবে পরবর্তীতে ২০২৩ সালের আগস্টে আজিজুল ওই গাড়িগুলোর মধ্যে দুটি ফেরত নেন।
অভিযোগে বলা হয়, ব্যবসায়িক লেনদেনে ড্রাগন ফল বিক্রির মুনাফা হিসেবে শাহীনুজ্জামানের কাছ থেকে আজিজুলের কাছে আরও প্রায় ১৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা পাওনা থাকে। কিন্তু টাকা পরিশোধের পরিবর্তে আসামি বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে বাদীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং ঋণ শোধ এড়ানোর চেষ্টা করেন। এদিকে গাড়িগুলো নিয়ে জাল চুক্তিপত্র তৈরি করে ভাড়ায় ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে। বিষয়টি নিয়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর ঝিকরগাছার একটি মাঠে সালিশ বৈঠকেও সমাধান হয়নি। শেষে আইনগত প্রতিকার চেয়ে শাহীনুজ্জামান আদালতের শরণাপন্ন হন।
বাদীর আইনজীবী রুহিন বালুজ জানান, মামলায় স্পষ্টভাবে প্রতারণা এবং জালিয়াতির চিত্র উঠে এসেছে। পাশাপাশি তৎকালীন ডিবি প্রধানের নাম ভাঙিয়ে বাদীকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চাওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডেস্ক রিপোর্ট