কৃষক কার্ড প্রকল্পে টেন্ডার ছাড়াই কাজ বণ্টনের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর কাছে হাসনাতের প্রশ্ন
৭০০–৮০০ কোটি টাকার কৃষক কার্ড প্রকল্পে টেন্ডার ছাড়া কাজ বণ্টন ও সাব-কন্ট্রাক্ট দেওয়ার অভিযোগ তুলে তদন্ত দাবি করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
- আপলোড সময় : ১৭-১০-২০২৬ ০৩:৩৩:৫৬ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৭-১০-২০২৬ ০৩:৩৩:৫৬ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৬ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
৭০০–৮০০ কোটি টাকার কৃষক কার্ড প্রকল্পে টেন্ডার ছাড়া কাজ বণ্টন এবং সাব-কন্ট্রাক্ট দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রশ্ন তুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। সরকারি প্রকল্পে কাজ বণ্টনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব প্রশ্ন তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, সারাদেশে দরিদ্র মানুষ শনাক্ত করতে সরকার দুই হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় করছে। অথচ একই সময়ে কোনো ধরনের টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই ৭০০–৮০০ কোটি টাকার কৃষক কার্ড প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক বন্ধুর কোম্পানি পাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
হাসনাতের দাবি, কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পটির কাজ সরকার-টু-সরকার (G2G) পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের জন্য সেনাবাহিনীকে দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) মাধ্যমে সাব-কন্ট্রাক্ট দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের মধ্যে কাজ ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। খাল খননসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজও গত পাঁচ মাস ধরে এভাবে বণ্টন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব কাজের কিছু ই-জিপি (e-GP) পদ্ধতিতে, আবার কিছু অন্য প্রক্রিয়ায় দেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টে হাসনাত প্রশ্ন করেন, এত বড় একটি সরকারি প্রকল্পে টেন্ডার ছাড়া কাজ বণ্টন করা হচ্ছে কেন? বিএমটিএফের মাধ্যমে কারা সাব-কন্ট্রাক্ট পাচ্ছেন, কী মানদণ্ডে পাচ্ছেন এবং এ প্রক্রিয়ার পেছনে কারা রয়েছেন—এসব বিষয় প্রকাশ করার দাবি জানান তিনি।
গত পাঁচ মাসের কাজ বণ্টন প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি কিংবা আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
পোস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত মিতব্যয়িতা নিয়েও মন্তব্য করেন হাসনাত। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী দুপুরের খাবারে ১৫০ টাকা ব্যয় করেন বলে শোনা যায়। এ প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সাড়ে চার কোটি মানুষকে ১৫০ টাকা করে একবেলা খাবার দিতে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, প্রধানমন্ত্রীর বন্ধুরা একবেলাতেই সেই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছেন কি না।
পোস্টের শেষাংশে হাসনাত প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখেন, তাঁর নিজের মিতব্যয়িতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠজনদের কথিত ব্যয়ের এই বৈপরীত্যকে জনগণ কীভাবে দেখবে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।