শিশুকে গল্প শোনালে মনোযোগ ধরে রাখার অভ্যাস গড়ে ওঠে
শিশুকে নিয়মিত গল্প শোনালে মনোযোগ ধরে রাখা, কল্পনাশক্তি ও ভাষার দক্ষতা চর্চার সুযোগ তৈরি হয়।
- আপলোড সময় : ১৫-১০-২০২৬ ০৯:৪৪:৩০ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৫-১০-২০২৬ ০৯:৪৪:৩০ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৬ বার পঠিত
প্রতীকী ছবি- ( সংগৃহীত)
শিশুর মনোযোগ ধরে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে গল্প শোনানো হতে পারে একটি সহজ ও কার্যকর উপায়। গল্পের চরিত্র, ঘটনা ও পরিণতি জানার আগ্রহ শিশুকে মনোযোগ দিয়ে শুনতে উৎসাহিত করে। নিয়মিত গল্প শোনার সুযোগ পেলে শিশু ধীরে ধীরে কোনো বিষয় অনুসরণ করা এবং মনোযোগ ধরে রাখার অনুশীলন করতে পারে।
গল্প শোনার সময় শিশু বিভিন্ন চরিত্র, তাদের কাজ এবং ঘটনার ধারাবাহিকতা সম্পর্কে ধারণা পায়। কী ঘটবে, কেন ঘটবে কিংবা গল্পের শেষে কী হতে পারে—এমন প্রশ্ন তার কৌতূহল বাড়ায়। ফলে শোনার পাশাপাশি শিশুর চিন্তা করা, কল্পনা করা ও তথ্য মনে রাখার সুযোগ তৈরি হয়।
শিশুর বয়স ও আগ্রহ অনুযায়ী গল্প নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। ছোট শিশুদের জন্য সহজ ভাষারলল গল্প উপযোগী হতে পারে। গল্পের দৈর্ঘ্যও শিশুর বয়স ও মনোযোগের সক্ষমতা অনুযায়ী রাখা ভালো।
গল্প শোনানোর সময় অভিভাবকেরা মাঝেমধ্যে শিশুকে ছোট প্রশ্ন করতে পারেন। যেমন—গল্পে কী ঘটেছে, কোনো চরিত্র কেন এমন কাজ করেছে কিংবা এরপর কী হতে পারে। তবে প্রশ্নের মাধ্যমে শিশুর ওপর চাপ সৃষ্টি না করে গল্পটিকে আনন্দদায়ক রাখাই গুরুত্বপূর্ণ। শিশুকে নিজের ভাষায় গল্পের অংশ বলতে উৎসাহিত করাও উপকারী হতে পারে।
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে কয়েক মিনিট গল্প শোনানোর অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। এ সময় টেলিভিশন, মোবাইল বা অন্য কোনো মনোযোগ-বিভ্রান্তিকর বিষয় থেকে দূরে থাকা ভালো। অভিভাবক শিশুর সঙ্গে বসে গল্প পড়লে বা নিজের ভাষায় গল্প বললে তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও আবেগীয় বন্ধনও দৃঢ় হতে পারে।
তবে শুধু গল্প শোনালেই শিশুর সব সমস্যা দূর হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। ঘুম, শারীরিক কার্যকলাপ, বয়সোপযোগী খেলা এবং শান্ত পরিবেশও শিশুর সামগ্রিক বিকাশে ভূমিকা রাখে। গল্প শোনানোকে তাই শিশুর মনোযোগ, ভাষা ও কল্পনাশক্তির চর্চায় সহায়ক একটি নিয়মিত অভ্যাস হিসেবে দেখা যেতে পারে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।