অপরাধে জড়িত শিশুদের ৩২.৯২ শতাংশ হত্যা মামলার আসামি, পিএসসির গবেষণা
১৬০ থানার মামলা বিশ্লেষণ, অপরাধে শিশুদের জড়ানোর পেছনে বন্ধুমহল ও পারিবারিক অস্থিতিশীলতাকে দায়ী করছেন গবেষকরা
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১১-১০-২০২৬ ০১:৩৫:৪১ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১১-১০-২০২৬ ০১:৩৫:৪১ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ১২ বার পঠিত
ছবি সংগৃহিত
বাংলাদেশে অপরাধে জড়িত শিশুদের ৩২ দশমিক ৯২ শতাংশ হত্যা মামলার আসামি। এ ছাড়া ধর্ষণ, চুরি, মাদক ও অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে শিশুরা। আট বিভাগের ১৬০টি থানার মামলা পর্যালোচনা করে পুলিশ স্টাফ কলেজের (পিএসসি) এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।
‘সোশিওইকোনমিক ডিটারমিন্যান্টস অব চিলড্রেন ইন কনফ্লিক্ট উইথ দ্য ল ইন বাংলাদেশ: আ ক্রিমিনোলজিক্যাল অ্যানালাইসিস’ শীর্ষক গবেষণাটি পিএসসি জার্নালের জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। গবেষণাটি পরিচালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ও রামন চন্দ্র তালুকদার।
গবেষণায় দেখা যায়, অপরাধে জড়িত শিশুদের মধ্যে ১৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা বা প্ররোচনার মামলার আসামি। এ ছাড়া ১৫ দশমিক ৮৪ শতাংশের বিরুদ্ধে চুরি, ১০ দশমিক ৯৭ শতাংশের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবহার, ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশের বিরুদ্ধে অপহরণ এবং ৯ দশমিক ৬১ শতাংশের বিরুদ্ধে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ রয়েছে।
গবেষণায় গাজীপুরের দুটি ও যশোরের একটি সরকারি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ৪০৪ শিশু এবং তাদের ১৫৬ অভিভাবকের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এতে দেখা যায়, অপরাধ সংঘটনের সময় ৫২ দশমিক ৯৭ শতাংশ শিশু অন্য কারও সঙ্গে ছিল। তাদের মধ্যে ৮৬ দশমিক ৯২ শতাংশের সঙ্গী ছিল বন্ধু। এসব বন্ধুত্বের গড় মেয়াদ আট বছর।
গবেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, সমবয়সীদের চাপ এবং কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব শিশুদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ শিশুর পরিবারের আয় ছিল ব্যয়ের তুলনায় কম। এসব পরিবারের গড় মাসিক আয় ১৯ হাজার ২৭৫ টাকা। এ ছাড়া ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ শিশুর পরিবারের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এসব পরিবারের অভিযুক্ত সদস্যদের মধ্যে বাবার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ শিশু দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে কাটায়। তাদের বাইরে থাকার গড় সময় প্রায় আট ঘণ্টা। গবেষকদের বিশ্লেষণে পারিবারিক তদারকির অভাব, শিক্ষার সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা এবং অনিয়ন্ত্রিত বন্ধুমহলকে অপরাধে জড়িয়ে পড়ার গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, শিশু-কিশোরদের হত্যা ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়া অশনিসংকেত। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ, কাউন্সেলিং, পারিবারিক তত্ত্বাবধান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা এবং পুনর্বাসনে গুরুত্ব দিতে হবে।
শিশু সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা বিজন চৌধুরী বলেন, মানসম্মত শিক্ষার অভাব, দারিদ্র্য ও জীবিকার প্রয়োজনে শিশুশ্রমে যুক্ত হওয়া অনেক শিশুকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। অপরাধী চক্র তাদের মাদকাসক্ত করে বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহার করতে পারে। তাই ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও শিক্ষায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক গুম কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন বলেন, শিশুদের জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে তাদের বয়স ও মানসিক পরিপক্বতা বিবেচনা করা জরুরি। প্রাপ্তবয়স্কদের মতো পদ্ধতিতে জিজ্ঞাসাবাদ বা বলপ্রয়োগ শিশুর মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা সংশোধনের পরিবর্তে অপরাধপ্রবণতা বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৩
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।