ট্রাম্পের আহ্বান, ইউক্রেনে নতুন নেতৃত্ব চান
ট্রাম্পের নিশানায় জেলেনস্কি, শান্তি চুক্তির স্বার্থে ইউক্রেনে নতুন নেতৃত্বের আহ্বান
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১১-১০-২০২৬ ০৬:৫০:১৫ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১১-১০-২০২৬ ০৬:৫৮:৪৭ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৩১ বার পঠিত
ছবি— সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক অগ্রগতি না হওয়ার জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম এমন নতুন নেতৃত্ব এখন ইউক্রেনের প্রয়োজন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে ক্রেমলিন। একই সঙ্গে রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনার বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান এবং যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মতবিরোধ নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শনিবার টেনেসির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ইউক্রেনের নেতৃত্ব পরিবর্তনের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, জেলেনস্কি বারবার শান্তি চুক্তির সুযোগ হাতছাড়া করছেন। এর ফলে যুদ্ধের অবসান বিলম্বিত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের পরপরই প্রতিক্রিয়া জানায় ক্রেমলিন। রুশ কর্মকর্তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ওয়াশিংটন অবশেষে পরিস্থিতির বাস্তবতা উপলব্ধি করছে। তবে ইউক্রেনের নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়ে ট্রাম্পের আহ্বান এবং এর সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যে রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগও দুই দেশের বিরোধকে আরও তীব্র করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির আওতায় অবিলম্বে তিন লাখ টন এবং আগামী নভেম্বরে আরও পাঁচ লাখ টন রুশ ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়াকে জ্বালানি বিক্রির সুযোগ দেওয়া হলে দেশটির যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা বাড়তে পারে। তাঁর মতে, রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি থেকে অর্জিত অর্থ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করতে সহায়তা করবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও চুক্তিটির বিরোধিতা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ রাশিয়ার সামরিক ব্যয় বাড়াতে ব্যবহৃত হতে পারে।
জেলেনস্কির সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা বিশ্ববাজারে সরবরাহসংকট তৈরির অন্যতম কারণ। তাঁর অভিযোগ, এসব স্থাপনায় হামলা না চালানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছে কিয়েভ। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোক্তা, কৃষক ও পশুপালকেরা জ্বালানির বাড়তি দামের চাপে পড়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানকেন্দ্রিক সামরিক পদক্ষেপের পর জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি মার্কিন প্রশাসনের জন্য অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সমঝোতা এবং ইউক্রেনের নেতৃত্ব নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ বন্ধের কৌশল, রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং ইউক্রেনকে সমর্থনের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হতে পারে। ট্রাম্প ও জেলেনস্কির প্রকাশ্য বিরোধ ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে পশ্চিমা দেশগুলোর ঐক্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: ইউরো নিউজ
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৯
শনিবার টেনেসির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ইউক্রেনের নেতৃত্ব পরিবর্তনের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, জেলেনস্কি বারবার শান্তি চুক্তির সুযোগ হাতছাড়া করছেন। এর ফলে যুদ্ধের অবসান বিলম্বিত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের পরপরই প্রতিক্রিয়া জানায় ক্রেমলিন। রুশ কর্মকর্তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ওয়াশিংটন অবশেষে পরিস্থিতির বাস্তবতা উপলব্ধি করছে। তবে ইউক্রেনের নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়ে ট্রাম্পের আহ্বান এবং এর সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যে রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগও দুই দেশের বিরোধকে আরও তীব্র করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির আওতায় অবিলম্বে তিন লাখ টন এবং আগামী নভেম্বরে আরও পাঁচ লাখ টন রুশ ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়াকে জ্বালানি বিক্রির সুযোগ দেওয়া হলে দেশটির যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা বাড়তে পারে। তাঁর মতে, রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি থেকে অর্জিত অর্থ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করতে সহায়তা করবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও চুক্তিটির বিরোধিতা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ রাশিয়ার সামরিক ব্যয় বাড়াতে ব্যবহৃত হতে পারে।
জেলেনস্কির সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা বিশ্ববাজারে সরবরাহসংকট তৈরির অন্যতম কারণ। তাঁর অভিযোগ, এসব স্থাপনায় হামলা না চালানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছে কিয়েভ। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোক্তা, কৃষক ও পশুপালকেরা জ্বালানির বাড়তি দামের চাপে পড়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানকেন্দ্রিক সামরিক পদক্ষেপের পর জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি মার্কিন প্রশাসনের জন্য অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সমঝোতা এবং ইউক্রেনের নেতৃত্ব নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ বন্ধের কৌশল, রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং ইউক্রেনকে সমর্থনের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হতে পারে। ট্রাম্প ও জেলেনস্কির প্রকাশ্য বিরোধ ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে পশ্চিমা দেশগুলোর ঐক্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: ইউরো নিউজ
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।