সেপ্টেম্বরে পণ্য রপ্তানি ও প্রবাসী আয় দুটিই বেড়েছে
তৈরি পোশাক, চামড়া ও পাট খাতে প্রবৃদ্ধি, সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয় এসেছে ২৭৭ কোটি ডলার
- আপলোড সময় : ০২-১০-২০২৬ ১১:৩৪:৫৫ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০২-১০-২০২৬ ১১:৩৪:৫৫ পূর্বাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ১০৩ বার পঠিত
ছবি—সংগৃহীত
চলতি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে ৩৯৪ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি এবং ২৭৭ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি আয় ৮ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি এবং প্রবাসী আয় ৩ শতাংশ বেড়েছে।
চলতি ২০২৬ ২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের দুই গুরুত্বপূর্ণ উৎস পণ্য রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে উভয় খাতের আয় কিছুটা কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশের মোট পণ্য রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৯৪ কোটি ডলার। আগের বছরের একই মাসে এই আয় ছিল এর চেয়ে কম। অন্যদিকে, গত মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৭৭ কোটি ডলার। দুই উৎস মিলিয়ে সেপ্টেম্বরে সম্ভাব্য বৈদেশিক মুদ্রা আয় দাঁড়িয়েছে ৬৭১ কোটি ডলার। তবে রপ্তানি আয় দেশে আসতে কিছুটা সময় লাগে, যেখানে প্রবাসী আয় সাধারণত দ্রুত দেশে প্রবেশ করে।
রপ্তানির প্রধান পাঁচটি খাতের মধ্যে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হোমটেক্সটাইল এবং পাট ও পাটজাত পণ্যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিপরীতে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের রপ্তানি কমেছে।
গত সেপ্টেম্বরে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩০৮ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেশি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে এ খাতের রপ্তানি আয় ছিল ২৮৪ কোটি ডলার।
নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, আগামী দুই থেকে তিন মাস পোশাকশিল্পের ভরা মৌসুম। এ সময়ে রপ্তানি আরও বাড়বে বলে তাঁরা আশা করছেন।
চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি থেকে গত মাসে আয় হয়েছে ১১ কোটি ডলার। এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ শতাংশ। একই সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৯ কোটি ডলারের, যা আগের বছরের তুলনায় ২২ দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলারে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতে আয় হ্রাস পেয়েছে ২১ দশমিক ৭০ শতাংশ। তবে হোমটেক্সটাইল পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৭ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ বেশি।
রপ্তানিকারকেরা জানিয়েছেন, দেশে গত দুই মাস ধরে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট থাকলেও উদ্যোক্তারা উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করেছেন। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। তারপরও রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল প্রায় ২৮৬ কোটি ডলার। আগস্টে তা বেড়ে প্রায় ২৯৭ কোটি ডলারে পৌঁছায়। তবে সেপ্টেম্বরে এই আয় কমে ২৭৭ কোটি ডলারে নেমেছে। এর আগে সর্বশেষ গত মে মাসে প্রবাসী আয় ৩০০ কোটি ডলারের সীমা অতিক্রম করেছিল।
ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর সুবিধা এবং ডলারের আনুষ্ঠানিক বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ইতিবাচক রয়েছে। সেপ্টেম্বরে আয় কিছুটা কমলেও সামগ্রিক এই প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার জোগান ও রিজার্ভ পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।