প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মূল লক্ষ্য হলো সংস্কার সংক্রান্ত বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে একটি সনদ প্রণয়ন করা, যাকে জুলাই সনদ নামে অভিহিত করা হবে। এই সনদ প্রণয়নের পর এর বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকে তিনি সমাপনী বক্তব্যে এ কথা বলেন।
অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রথম সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি সভাপতিত্ব করেন। তিনি গভীর সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “সংস্কার গভীর হতে হবে। আপনারা (রাজনৈতিক দল) বলবেন আমাদের প্রস্তাবে আপনারা একমত, অথবা কোন প্রস্তাবের সংশোধন চান বা কোন প্রস্তাবে একমত নন। এর মাধ্যমে জুলাই সনদ তৈরি করা সম্ভব হবে। সবাই একমত হলে বাস্তবায়নের পথ সহজ হয়ে যাবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ তৈরি করা ছাড়া দেশের মুক্তি নেই। সংলাপের মাধ্যমে প্রস্তাবগুলোর পেছনে কতগুলো দল একমত হয়েছে তা প্রকাশ করা হবে, যাতে জনগণ জানতে পারে কোন রাজনৈতিক দল কতগুলো প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছে। এই সনদকে যাদুঘরে সংরক্ষণ করারও পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ঐকমত্য কমিশনের অফিসে একাধিক টেলিফোন সংযোগ রাখা হবে, যাতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখা যায়। তিনি বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো কতগুলো প্রস্তাবে আমরা সবাই একমত হতে পারি তা নির্ধারণ করা। আমরা আপনাদের মতামতগুলোকে একত্রিত করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য না হলে দেশের মুক্তি সম্ভব নয়। সারাদেশের মানুষ বলবে, “তোমরা সনদে সই করলে না, সংস্কার করলে না, আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে গেলে।” সংস্কার প্রতিদিনের অনুভূতির বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সংস্কার আসমান থেকে আসা কোনো বিষয় নয়। এটা প্রতিদিন অনুভব করা যায়। সেই জায়গা থেকে আপনারা আপনাদের মতামত জানান।”