ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তার পদত্যাগের পর বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা ও বর্তমান খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় ভারতের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এ নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরামর্শে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু প্রহ্লাদ যোশীর কাছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন।
প্রহ্লাদ যোশী কর্ণাটকের ধারওয়াড় লোকসভা আসন থেকে টানা পাঁচবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি বর্তমানে দেশটির খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি কেন্দ্রীয় কয়লা, খনি এবং সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এর আগে শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন সদ্য বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল তার পদত্যাগ।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টা পর সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠকে বসে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন এবং আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিজেপির আরেক মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সংগঠনটি সরকারকে শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারসংক্রান্ত পাঁচ দফা দাবি দিয়েছে। প্রায় চার সপ্তাহ পর এসব দাবি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আবারও বৈঠক হবে বলে তিনি জানান।
আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণার পর দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের স্থান ত্যাগের আহ্বান জানায় পুলিশ। পরে অনেক আন্দোলনকারীকে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যেতে দেখা যায়।
ডেস্ক রিপোর্ট